ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্য বা সেভেন সিস্টার্সে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে বাংলাদেশের পার্বতীপুর দিয়ে ৭৬৫ কেভির উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সঞ্চালন লাইন নির্মাণের অনুমতি চেয়েছে নয়াদিল্লি। তবে সমান সুযোগ এবং আঞ্চলিক গ্রিড ব্যবস্থার নিশ্চয়তা ছাড়া বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতকে একক কোনো সঞ্চালন লাইন নির্মাণের অনুমতি দিতে নারাজ ঢাকা।

বিদ্যুৎ বিভাগের উচ্চপর্যায়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ভারতের মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ সচিবদের এক সম্মেলনে এ প্রস্তাব উত্থাপন করে দেশটি। বিশ্বব্যাংকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠকে ভারত তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বাংলাদেশের পার্বতীপুর দিয়ে ৭৫ থেকে ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সঞ্চালন করিডর ব্যবহারের অনুমতি চায়। ভারত জানায়, এই লাইন ব্যবহার করে বাংলাদেশও নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে।

তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে এ ধরনের করিডরের অনুমতি দেওয়া হবে না। ঢাকা মনে করে, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি গ্রিড সংযোগ থাকা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ভারত-ভুটান-বাংলাদেশ কিংবা নেপাল-ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আঞ্চলিক গ্রিড ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে।

বাংলাদেশের অবস্থান হলো, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা শুধু দ্বিপক্ষীয় না হয়ে আঞ্চলিক ভিত্তিতে গড়ে উঠতে হবে। এতে সংশ্লিষ্ট সব দেশ সমানভাবে বিদ্যুৎ আদান-প্রদানের সুযোগ পাবে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানায়, আগের সরকারের আমলে দুই দেশের বিদ্যুৎ সচিব পর্যায়ের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকেও ভারতের করিডর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ওই সময় ২০২৫ সালে সঞ্চালন লাইনের নির্মাণকাজ শুরু করে ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তৎকালীন সরকার প্রস্তাবটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি।

পরে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ৭৬৫ কেভি গ্রিড লাইন নির্মাণের বিষয়টি তুলে ধরেন।

এ বিষয়ে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারত যেভাবে গ্রিড লাইন নিতে চায়, সরকার সেভাবে বিষয়টি বিবেচনা করছে না।