কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন তার দুই ছেলে সুলাইমান খান ও কাসিম খান। তাদের অভিযোগ, বাবাকে কারাগারে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন করে রাখা হচ্ছে এবং তার কণ্ঠ রোধের চেষ্টা চলছে।


ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্ট ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। মাইকেল অ্যাথারটনের নেওয়া সুলাইমান ও কাসিমের একটি সাক্ষাৎকার স্কাই স্পোর্টসে প্রচারিত হওয়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সাক্ষাৎকারটি সরিয়ে না নিলে ম্যাচের প্রথম দিনের লাঞ্চের পর পাকিস্তান দলকে মাঠে না নামানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

citytouch 728-X-90


এ ঘটনায় পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সমালোচনা করেন ইমরানের দুই ছেলে। কাসিমের দাবি, বাবার নিরাপত্তা নিয়ে তাদের পরিবার অত্যন্ত শঙ্কিত। তার আশঙ্কা, ইমরানকে এমন পরিস্থিতির মধ্যে রাখা হচ্ছে, যাতে ধীরে ধীরে তাকে জনসাধারণের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া যায়।


বাবার বর্তমান অবস্থা নিয়েও পর্যাপ্ত তথ্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন কাসিম। তার ভাষ্য, পরিবারকে দেওয়া বেশিরভাগ তথ্যই সরকারি সূত্রনির্ভর। ফলে সেগুলোর নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।


সুলাইমান বলেন, ইমরানের স্বাস্থ্য ও কারাবন্দি জীবনের বাস্তবতা নিয়ে একটি সাক্ষাৎকার প্রচারকে কেন্দ্র করে পিসিবির এমন প্রতিক্রিয়া তারা আশা করেননি। তার মতে, এটি রাজনৈতিক প্রচারণার বিষয় নয়; বরং একজন বন্দির স্বাস্থ্য ও মানবিক পরিস্থিতির প্রশ্ন।


তবে ইমরান খানকে নিয়ে ওঠা অসদাচরণ ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, কারাগারে ইমরান প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন।


সরকারের এই বক্তব্য নিয়েও সন্তুষ্ট নন তার ছেলেরা। তাদের দাবি, বাবার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পরিবারকে নিয়মিত ও স্বচ্ছভাবে তথ্য দেওয়া হলে তাদের উদ্বেগ অনেকটাই কমত।


ইমরান খানের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কারাবাস নিয়ে পরিবার এবং পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের বিপরীত বক্তব্যের মধ্যেই নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে বিষয়টি।