
কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সহজ চেহারার ভয়ঙ্কর এক বোলারের মুখ। টাইগার বোলার মোস্তাফিজ অভিষেকের পর থেকেই বিশ্বমানের ব্যাটারদের জন্যে আতঙ্কে পরিণত হন। দুর্দান্ত বোলিং অ্যাকশনের জন্য তার নামের পাশে যোগ হয় কাটার মাস্টার উপাধি। আইপিএল খেলে এই কাটার মাস্টার নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের আইপিএলেও শুরু থেকে দারুণ বোলিংয়ের মাধ্যমে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমান।
যে মোস্তাফিজ মানেই ম্যাচ জয়ের নায়ক, সেই মোস্তাফিজই কিনা ম্যাচ পরাজয়ের খলনায়ক হয়ে গেলেন দিল্লির জন্য ! মূলত, শনিবারের দিনটি যেন মোস্তাফিজের জন্য ছিলো না। সবচেয়ে মিতব্যয়ী মোস্তাফিজ রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ১৮তম ওভার করতে এসে হয়ে গেলেন সবচেয়ে খরুচে বোলার। তার এক ওভারে বেঙ্গালুরু তুলে নেয় ২৮ টি রান। এ সময় তার দল দিল্লি জয়ের বন্দর থেকে ছিটকে যায়। যার দরুণ দিল্লির পরাজয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ান তিনি।
১৮তম ওভারে বোলিংয়ে এসে দীনেশ কার্তিকের হাতে পুরোদমে মার খান কাটার মাস্টার। ওই ওভারের প্রথম তিন বলে তিনটি বাউন্ডারি হাঁকান কার্তিক। চতুর্থ ও পঞ্চম বলে হাঁকান ছক্কা। আর শেষ বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ২৮ রান তুলে নেওয়ার মধ্য দিয়ে মাত্র ২৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর আগ্রাসী এই ব্যাটার।
ইনিংসের শুরু থেকেই দুর্দান্ত বোলিং করতে থাকেন মোস্তাফিজ। প্রথম ওভারে মাত্র ৫ রান খরচ করেন তিনি । ষষ্ঠ ওভারে বোলিংয়ে এসে দুই বাউন্ডারিতে খরচ করেন মাত্র ১০ রান। ১৬তম ওভারে এসে খরচ করেন মাত্র ৫ রান। ৩ ওভারে ২০ রান খরচ করা মোস্তাফিজ নিজের শেষ ওভারে খরচ করেন ২৮ রান। ৪ ওভারে ৪৮ রান খরচ করে কোনো উইকেট শিকার করতে পারেননি দিল্লি ক্যাপিটালসের এই তারকা পেসার।
ম্যাচ শেষে দিল্লি অধিনায়ক রিশাভ পান্ত জানিয়েছেন, মোস্তাফিজের ওই এক ওভারেই তারা হেরে গেছেন। পান্ত বলেন, ‘মোস্তাফিজের ওই ওভার ম্যাচ বদলে দিয়েছে। আমার ধারণা, আরেকটু পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করতে পারতাম আমরা। কিন্তু শেষ দিকে দীনেশ কার্তিক আমাদের চাপে ফেলে দিয়েছিলেন। এর আগেও বলেছি, আমাদের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে।’
শনিবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড় স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রান করে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। দলের হয়ে ৩৪ বলে সর্বোচ্চ ৬৬ রান করেন দীনেশ কার্তিক। ৩৪ বলে ৫৫ রান করেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।



