কাতার বিশ্বকাপে ২৪ লাখের বেশি টিকিট বিক্রি, রাস্তায় নামবে ৪ হাজার বাস
হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া


আসন্ন কাতার বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত সাড়ে ২৪ লাখেরও বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, মাঠে বসে খেলা দেখতে আগ্রহী ফুটবল প্রেমীদের উন্মাদনা যেন ততই বাড়ছে।আয়োজক দেশ হতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শেষ কয়েকদিনের মধ্যে টিকেট বিক্রির হার প্রচুর বেড়ে গেছে। গত ৫ জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সর্বশেষ ধাপে বিক্রি হয়েছে ৫ লাখেরও বেশি টিকেট। জুনে টিকিটের চাহিদা ছিল রীতিমতো রেকর্ড গড়ার মতো। প্রায় ১২ লাখ টিকিট বিক্রি হয়েছিলো সে সময়।এরপর আগস্ট মাসের শেষ দিকে এসে টিকিট বিক্রির পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি হয়ে গিয়েছে। সব মিলিয়ে ফিফার হাতে আরও ৩০ লাখ ১০ হাজার ৬৭৯টি টিকিট বিক্রির জন্য বরাদ্ধ আছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ‘শেষ মুহূর্তে’ এসব টিকিট ছাড়া হবে। টিকেট বিক্রির পরবর্তী ধাপের সময় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জানিয়ে দেওয়া হবে। শেষ ধাপের টিকেট বিক্রি চালু হওয়ার পর পরই দোহাতে কাউন্টারেও সরাসরি মিলবে টিকেট।এবার ডিজিটাল পদ্ধতিতে টিকেট বিক্রির কারণে ভোগান্তি কিছুটা কম পোহাতে হচ্ছে সেচ্ছাসেবকদের।কাতার, যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, সৌদি আরব, মেক্সিকো, আরব আমিরাত, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানির নাগরিকেরা এ সময় টিকিট কিনতে সবচেয়ে বেশি সাড়া দিয়েছেন। গ্রুপ পর্বের জন্য সবচেয়ে বেশি টিকেট বরাদ্দ করা হয়েছে ব্রাজিল বনাম ক্যামেরুন, ব্রাজিল বনাম সার্বিয়া, পর্তুগাল বনাম উরুগুয়ে, কোস্টা রিকা বনাম জার্মানি এবং অস্ট্রেলিয়া বনাম ডেনমার্ক ম্যাচে।মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে প্রথম বারের মত বসতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবলের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আসর। সাধারণত জুন-জুলাই মাসের মধ্যেই বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হয়। তবে এ সময়ে কাতারের তীব্র গরমের কথা মাথায় রেখে এবার টুর্নামেন্টের সময় পিছিয়ে নভেম্বর-ডিসেম্বরে নেওয়া হয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে দেশটিতে ১০ লাখের বেশি ফুটবল প্রেমীর সমাগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।তাদের যাতায়াতের জন্য কাতারের রাজধানী দোহার রাস্তায় ১ হাজার ৩০০ বাস পরীক্ষামূলকভাবে নামিয়েছেন আয়োজকেরা। কোনো আন্তর্জাতিক ইভেন্টে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির জন্য এর আগে কখনো এত পরিবহন রাস্তায় নামানো হয়নি। দেশটির বাস ও ট্যাক্সি সার্ভিসের প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আহমেদ আল ওবাইদলি বলেছেন, ‘খেলাধুলার কোনো বড় ইভেন্টের জন্য এটিই সবচেয়ে জটিল পরিবহন ব্যাপস্থাপনা।বিশ্বকাপের সময় কাতারের রাস্তায় চার হাজারের বেশি বাস থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। চালকের সংখ্যাও বাড়িয়ে ১৪ হাজার করা হয়েছে। বেশির ভাগ চালকই আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার। প্রতিটি বাসে পাঁচটি করে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে। কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টার থেকে এ ক্যামেরায় চোখ রাখা হবে বাসের ভেতর, যেন কেউ কোনো সমস্যার সৃষ্টি করতে না পারে।গত সপ্তাহে আয়োজকেরা কাতার বিশ্বকাপ এক দিন এগিয়ে আনেন। স্বাগতিক কাতার এবং ইকুয়েডরের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে আগামী ২০ নভেম্বর শুরু হবে বিশ্বকাপ।এরইমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম এই বিশ্বকাপ উপভোগ করতে বিভিন্ন দলের সমর্থকরা কাতারে যেতে শুরু করেছেন। এমনকি স্থান সংকুলান না হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় পার্শ্ববর্তী দেশ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও পাড়ি জমাচ্ছেন অনেকে। আসরের মাঝে এই দেশগুলো থেকে কাতারে নিয়মিত সরাসরি যাতায়াতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।



