-2612.jpg&w=3840&q=75)

মাথাপিছু আয়ের দিক দিয়ে বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ কাতার। বিশ্বকাপের মঞ্চে সে দেশের রাজা নিজ হাতে একটি পোশাক পরিয়ে দিয়েছেন লিওনেল মেসিকে। এর থেকেই ধারণা পাওয়া যায় কতোটা সম্মানিত করা হয়েছে ভিনগ্রহের ফুটবলার খ্যাত এই তারকাকে। তবে শুধু সম্মানের দিক দিয়েই নয়। মেসিকে পরিয়ে দেয়া এই পোশাকটির দাম শুনলেও চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। গত ১৮ ডিসেম্বর কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্ব। ফ্রান্সের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ম্যাচে জয়ী হয় আর্জেন্টিনা। কোটি কোটি ভক্তের প্রত্যাশা মতোই সোনালি ট্রফি উঠে লিওনেল মেসির হাতে। এরপর সমাপনি অনুষ্টানে শুরু হয় পুরস্কার বিতরন পর্ব। যেখানে সবার শেষে ডাকা হয় আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে। বিশ্বকাপ ট্রফি নেয়ার জন্য মঞ্চে আসার পর কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি নিজ হাতে একটি পোশাক পরিয়ে দেন লিওনেল মেসিকে। যা অবাক করেছে পুরো বিশ্বকে। এর আগে বিশ্বকাপের মঞ্চে এরকমটা কখনোই দেখা যায়নি। কাতারের রাজার পরিয়ে দেয়া এই পোশাকের নাম বিশত। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এটি অত্যন্ত মর্যাদার প্রতীক হিসাবে বিবেচিত। লম্বা আকারের এই পোশাক সাদা আলখাল্লার উপর পরা হয়। এটি তৈরি করা হয় খুবই উন্নত এবং হালকা সুতা দিয়ে। পোশাকের গায়ে থাকে খাটি স্বর্ণের কাজ। সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের রাজপরিবারের সদস্য, শেখ এবং সমাজের উচ্চ মর্যাদার ব্যক্তিরা এই পোশাক পরে থাকেন। শত শত বছর ধরে এমন ঐতিহ্য চলে আসছে বিভিন্ন দেশে। মেসিকে পরিয়ে দেয়া পোশাকটি কেনা হয়েছে আহমেদ আল সালেম নামক এক ব্যবসায়ীর দোকান থেকে। যিনি কাতারের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিশত প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক। আল সালেম জানান, বিশ্বকাপ ফাইনালের আগেই পোশাকটি তার দোকানে অর্ডার দেয়া হয়েছিলো। তবে পোশাকটি মেসি পরবেন একথা তার জানা ছিলো না। ফাইনালের কয়েকদিন আগে দুইটি বিশত কিনে নেয়া হয় তার দোকান থেকে। অর্ডার দেয়া সময় বলা হয়েছিলো, বিশতে যেন খুব হালকা এবং স্বচ্ছ ফেব্রিকের কাপড় দেয়া হয়। যা শুনে অবাক হয়েছিলেন আল সালেম। কারণ শীতকালে এত হালকা বিশত সাধারণত চাওয়া হয় না। তবে আসল ব্যাপার পরে বুঝতে পেরেছেন আল সালেম। হালকা ফেব্রিক নেয়া হয়েছে যাতে মেসির জার্সি ঢাকা না পড়ে। আল সালেম নামক এই ব্যবসায়ী জানান, মেসিকে যে বিশত পরিয়ে দেয়া হয়েছে সেটির দাম ২ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকার বেশি। মর্যাদাবান এ পোশাকে ব্যবহার করা হয়েছে জাপান থেকে আমদানি করা নাজাফি কটন কাপড়। আর স্বর্নের যে থ্রেড রয়েছে- তা জার্মানি থেকে আমদানি করা। অত্যন্ত দামি এ পোশাক তৈরি করতে সময় লাগে এক সপ্তাহের মতো। মজার ব্যাপার হচ্ছে, মেসির গায়ে পোশাকটি পরিয়ে দেয়ার পর রাতারাতি এটির চাহিদা বেড়ে যায়। আগে একদিনে ৮ থেকে ১০ টি বিশত বিক্রি করতেন আল সালেম। কিন্তু বিশ্বকাপ ফাইনালের পরদিন ১৫০ টি বিক্রি করেছেন তারা। অনেক আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপ ট্রফির রেপ্লিকা হাতে ছবি তুলছিলো বিশত গায়ে দিয়ে। মূলত মেসির অনুকরণ করতে গিয়ে এমন কান্ড করেছেন সমর্থকরা।



