
লিটন কুমার দাশ, প্রতিভায় ভরা ছেলেটা, হাজার সমালোচনা পেরিয়ে ছিলেন নিদারুণ ছন্দে । লিটনের যখন ছন্দে ফেরা শুরু, তখনই ইনজুরির কারণে ছিটকে গেলেন এশিয়া কাপ থেকে ।
এই দুঃখ, এই হতাশা নিয়ে বাড়ি ফেরার পর হয়তো, একটাই ভাবনা ছিল, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে, নতুন ভাবে ফিরবেন।
টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপে পাঁচ ইনিংসে তার রান সংখ্যা ১২৪। এর মধ্যে অবিস্মরণীয় ইনিংস বলতে, ভারতের বিপক্ষে ২৭ বলে ৬০ রান।
স্ট্রাইক রেটটা ২২২ এর উপরে। এরকম ইনিংস দেখাটা যেমন চোখের শান্তি, শোনাটাও মনের শান্তি।
এছাড়া বাকি যে ৪ ইনিংস খেলেছেন, তার মধ্যে ৩ টাতেই, ২ অংকের ঘর পেরোতে পারেননি।
সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩০ রানের ইনিংসটা কেমোথেরাপির মতো; যখন কিছুই করার নেই, তখন ৩০ বলে ৩১ রানের টি-টোয়েন্টি ইনিংসটা, যেন শুধুই মান বাঁচানোর।
ভারত ছাড়া তার পুরো ওয়ার্ল্ড কাপে, স্ট্রাইক রেটের দিকে তাকিয়ে, আপনি বুঝতেও পারবেন না, ছেলেটা টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান, নাকি ট্যালেন্ডার।
সত্যিকার অর্থে, এদেশী ক্রিকেটারদের সমস্যাটাই এখানে, কেউ ধারাবাহিক না।
ক্লাসিক্যাল লিটনের ব্যাটিংটা, যদি আপনি সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তাহলে দেখবেন- দারুণ ফুট ওয়ার্ক, নিখুঁত শর্ট সিলেকশন, পারফেক্ট প্লেসমেন্ট।
তাহলে কেন তিনি ধারাবাহিক না, এই প্রশ্নের উত্তর লিটন নিজেও হয়তো জানেন না।
ক্রিকেটারদের খারাপ সময় যাবে, ভালো সময় আসবে, আলোচিত সমালোচিত সব কিছুই হবে এটাই স্বাভাবিক।
তবে যেটা স্বাভাবিক না, সেটা হলো আশার পারদ জ্বলতেই, ভিজে যায় ম্যাচের কাঠি।
বিপিএলে রানে ফিরে আবারো আশা দেখিয়েছেন; তবে সেই আশা হতাশায় রূপ নিতে, সময় লাগেনি।
ইংল্যান্ড সিরিজে তার ব্যাটিং এপ্রোচ, ব্যাটিং পারফরম্যান্স- সেই শুরুর দিকের লিটনের মতো।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন ধারাবাহিকতার বিষয়টা, সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সাথে স্ট্রাইক রেট বিবেচনা, দলে ইম্প্যাক্ট, ইনটেন্ট এসব কিছুই।
লিটনের এই পারফরম্যান্স মনে করিয়ে দেয়, সাবেক তারকা ব্যাটার “আশরাফুলের” কথা।
তিনিও ছিলেন দুর্বার, ছিলেন প্রতিভায় ভরা।
‘মিস্টার অ্যাশ’ যখন চেক ড্রাইভ করতেন, তখন মনে হতো, ক্রিকেটের লিজেন্ড শচীন টেন্ডুলকারের ব্যাটিং উপভোগ করছে বাংলার দর্শকেরা।
তবে সেই দুধে ভাতে আশরাফুলের, ঘোলে রূপ নিতে সময় লাগেনি এক মুহুর্ত। তার নান্দনিক ইনিংসগুলো দেখতে, অপেক্ষা করতে হতো দর্শকদের।
সেইসব যুগ পেরিয়ে এখন ক্লাসিক্যাল যুগেও, লিটনের ব্যাটিংয়ে অপেক্ষা বাড়ায়; বাড়ায় আক্ষেপ।
সেই আক্ষেপ ঘুচাতে লিটনকে যে কোন মূল্যে ফিরতে হবে ধারাবাহিকতায়।
কারণ তার এবিলিটি নিয়ে, বিন্দু পরিমাণ নেগেটিভিটি নেই দর্শক মনে; প্রমাণ তো তিনি করেছেন-ই, তবে এবার তাই চাই, পারফর্মটা।



