
গত সিজনে নানা জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে, একদম শেষ মুহূর্তের শেষ ঘন্টায়, পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকা থেকে চেলসিতে আসেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্ন্দান্দেজ। বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন তারকা এনজোর পেছনেই তারা খরচ করেছে রেকর্ড ১২ কোটি ১০ লাখ ইউরো। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৩৯৯ কোটি টাকা। যা চেলসির ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড মুল্য। চেলসির অবস্থা মোটেও ভালোনা এই সিজনে। আর তাইতো নিজেদের হারানো গর্ব ফিরে পেতে উঠে পড়ে লেগেছে ব্লুজরা। দলবদলে পানির মতো টাকা ঢেলেছে চেলসি। কেন তাকে এতো দামে কিনে আনা হলো্ এনজোকে , সেটাই এখন বুঝিয়ে দিচ্ছেন হাড়েহাড়ে । প্রতি ম্যাচে দেখাচ্ছেন তার অসাধারন পারফর্মেন্স, খোলস খূলে ধারাবাহিক জয়ের ছন্দে ফিরছে কোচ গ্রাহাম পোর্টারের শিষ্যরা। শেষ চ্যাম্পিয়ন্স লীগে নক আউট পর্বের ম্যাচে বুরুশিয়া ডটমুন্ডকে উড়িয়ে দিয়ে পরের স্টেজে ব্লজরা। অথচ প্রথম লেগের ম্যাচে জার্মানির এই শক্তিশালি ক্লাবের কাছে হেরে বসে চেলসি। সেখান থেকে দারুনভাবে কামব্যক করে এনজো ফার্নান্দেজরা । ২-০ গোলের দারুন জয়ে চেলসি এখন ইউসিএলের পরের রাউন্ডে। দারুন এই জয়ে এনজোর পারফর্মেন্স ছিল উল্লেখকরার মত। রেটিং পয়েন্টও তার দিন দিন উন্নতির দিকে । ইংলিশ এই ক্লাবটিতে এসে পারফর্মেন্সের পাশাপাশি ভক্তদের হ্রদয়ও জয় করে ফেলেছেন ইতিমধ্যে। বুরুশিয়া ডর্টমুন্ডের ম্যাচের দিনে, এনজোকে ছোয়ার জন্য এক ক্ষুদে ভক্ত কঠিন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে, মাঠের ভিতরে ঢুকে পড়ে। মুহুর্তেই নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে বাধা দিলে, এনজো নিজে গিয়ে সেই ক্ষুদে ভক্তের সাথে দেখা করেন, তার সাথে ছবি তুলতেও দেখা যায় তাকে। নিজের জার্সিটি খুলে তাকে দিয়ে দেন। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম কাণ্ডারি ছিলেন তরুণ এনজো ফার্নান্দেজ। জিতেছিলেন সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার। এরপর থেকেই টাকার থলি নিয়ে এনজোকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টায় ছিল ইউরোপের ক্লাবগুলো। তবে সেই দৌড়ে বরাবরই এগিয়ে ছিল চেলসি। নতুন মালিক টড বেহলি এবং কোচ গ্রাহাম পটার মিলে ঢেলে সাজাচ্ছেন ব্লুজদের। শেষ পর্যন্ত ইউরোপের সর্বোচ্চ রেকর্ড মুল্য দিয়ে এনজো ফার্নান্দেজকে দলে ভেড়ালো ইউরোপিয়ান ক্লাবটি।বিশ্বকাপের আগে বেনফিকার জার্সিতে দারুণ খেলেছিলেন এনজো। হয়ে উঠেছিলেন পর্তুগিজ ক্লাবটির গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন। লিগের মাঝপথে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে আর্জেন্টিনা দলেও ভুমিকা রাখেন দারুনভাবে।তার অসাধারণ নৈপুন্যে চ্যাম্পিয়নস লীগের ২য় রাউন্ডে উঠেছিল বেনফিকা। এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছাড়তে মোটেও রাজি ছিলোনা বেনফিকা। আধুনিক মিডফিল্ডারের সব ধরনের স্কিল রয়েছে তার মাঝে । তিনি দুর্দান্ত একজন বল পাসার,কিছুটা রিয়েল মাদ্রিদের টনি ক্রসের মতো, জায়গা বুঝে খুব দ্রুত বল পাস করতে পারেন অনায়াসেই। পুরো মাঠ ডিটেক্ট করতে পারার কৌশল রপ্ত করে ফেলেছেন তরুন বয়সেই। একুরেট লং পাসের মাধ্যমে এক উইং থেকে আরেক উইংয়ে, সফলভাবে বল পাস করতে পারেন উদীয়মান এই তারকা । শেষ বেশ কিছু ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ি তার পাসিং সাকসেস রেট গড়ে ৯৯ পার্সেণ্ট। গড়ে ৯৬ পার্সেন্ট লং পাস দিয়ে গোলের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছেন দারুনভাবে। চেলসিতে নিজের চেনা ফর্মে ফিরতে শুরু করেছেন আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ।



