

নিজস্ব প্রতিবেদক:বাংলাদেশে যারা নিয়মিত ক্রিকেট ফলো করেন কিংবা টুকটাক খবরাখবর রাখেন তাদের আর বোঝার বাকি নেই কার কথা বলছি। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন তিনি সাকিব আল হাসান। আলোচনা-সমালোচনায় থাকাটাই পছন্দ বেশী তার। হোক সেটি ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক। তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সরগরম থাকে ক্রিকেটপাড়া। এবারও তেমনি এক কাণ্ড ঘটিয়েছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।
আফগানিস্তান সিরিজ শেষ করে টাইগাররা যখন প্রোটিয়া বধের প্রস্তুতিতে, ঠিক তখনই নিজেকে সাউথ আফ্রিকা সিরিজ থেকে সরিয়ে নিতে শারীরিক ও মানসিকভাবে ফিট না উল্লেখ করে ছুটি চান তিনি। অগত্যা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেট থেকে বিশ্রাম দেয়। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মাথায়ই সাকিব নিজ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে জানান, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবেন তিনি।
এ নিয়ে ১২ মার্চ (শনিবার) দুপুরে বৈঠকে বসেছিলেন সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, বিসিবি’র শীর্ষ পর্যায়ের কর্তা-ব্যক্তিবর্গ এবং সাকিব আল হাসান। বৈঠক শেষে সাকিব জানান, যেহেতু আমি তিন ফরম্যাটে আছি, আমি তিন ফরম্যাটেই থাকব। সবসময়। বোর্ড অবশ্যই সিদ্ধান্ত নেবে আমাকে কখন বিশ্রাম দেওয়া দরকার। এটা বোর্ডই সিদ্ধান্ত নেবে। এটা দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকেই শুরু হবে। আমি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও থাকছি।
অন্যদিকে নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘সে মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত। এ কারণে তার সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হচ্ছে। আমার সঙ্গে লম্বা আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনার পর সে বলেছে যে, সে খেলবে। দক্ষিণ আফ্রিকাতেও খেলবে। আমি শুনে বলেছিলাম তুমি বিশ্রাম নাও, সময় নাও। এরপর বোর্ডে ডাকলাম। এটাকে স্পোর্টিংলি নেন। আমার মনে হয় এই সময়ে আমাদের সাকিবকে সমর্থন করা উচিত। সাকিব আল হাসান সব ফরম্যাটেই এভেইলেবল। কালকে রাতে সে যাবে।’
তবে সাকিবের এই খামখেয়ালিপনা এটাই প্রথম নয়। সিরিজের আগ মুহূর্তে এসে নিজের নাম প্রত্যাখ্যান থেকে শুরু করে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট খেলাসহ নানা অজুহাতে ছুটি চাওয়ার স্বভাবটাও যেন রীতিমতো তার রোজকার অভ্যেসে পরিণত হয়েছে। সিপিএল, বিগব্যাশ কিংবা আইপিএল খেলার জন্য সাকিব এর আগেও ছুটি নিয়েছেন বহুবার। সবশেষ নিউজিল্যান্ড সফরেও ছিলেন ছুটিতে। এর আগে শ্রীলঙ্কা সফর কিংবা ২০১৭ সালে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে ছাড়াই দল ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
দেশের ক্রিকেট রাজত্বে সাকিব যে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। একজন ভালো ক্রিকেটার যখন তার ক্যারিয়ার শেষ করে তখন তার শূন্যস্থানে আবির্ভূত হয় আরেক নক্ষত্র। কিন্তু সাকিবের বিকল্প তো দূরের কথা, বাংলাদেশ এখনও আরেকটি নক্ষত্র তৈরি পর্যন্ত করতে পারেনি। তাই হয়তো বা সাকিবের সকল আবদারই হাসিমুখে মেনে নেয় বিসিবি। আর ক্রিকেটবোদ্ধারাও মুখে খৈ ফোটান আলোচনা-সমালোচনার। যেমনটা এখন চলমান।



