

নতুন ইতিহাস রচনা করলো নেপালের জাতীয় ক্রিকেট দল। এসিসি মেন’স প্রিমিয়ার কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে এশিয়া কাপের মূল পর্বে নাম লিখিয়েছে জগত তামাতার দল। আরব আমিরাতকে সাত উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপের মূল পর্বে যাচ্ছে নেপাল। বিশ্ব ক্রিকেটের শক্তিশালী এশিয়ান বলয়ে থেকেও দীর্ঘদিন ক্রিকেটের মূলমঞ্চে ছিলো না হিমালয়ের দেশ নেপাল। তবে ধীরে ধীরে কাটছে সেই অচল অবস্থা। এই বছরের শুরুতেই প্রথমবারের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিলো তারা। এবার এশিয়া কাপে পা রেখে নতুন এক বার্তাই যেন দিচ্ছে দলটি। সবমিলিয়ে চলতি ২০২৩ সালকে নেপালের ক্রিকেট নিজেদের জন্য স্মরণীয় বলতেই পারেসাফল্যের সেই ধারাবাহিকতায় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপে কোয়ালিফাই করলেন স্বন্দীপ লামিচানেরা। এসিসি মেন’স প্রিমিয়ার কাপের ফাইনালে আরব আমিরাতকে হারিয়ে মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলো তারা। মূল পর্বে ভারত এবং পাকিস্তানের গ্রুপে যুক্ত হবে নেপাল। নেপালের ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠের ফাইনালে শুরু থেকেই ভাগ্যকে পাশে পেয়েছিলো নেপাল। টস জিতেই প্রতিপক্ষ আরব আমিরাতকে ব্যাট করতে পাঠান নেপালের অধিনায়ক রোহিত কুমার। আসিফ খানের ৪৬ রানের ইনিংসের সুবাদে ১০০ পার করে আমিরাতের দলীয় সংগ্রহ। শেষ পর্যন্ত ৩৩ ওভারে মাত্র ১১৭ রানেই থেমে যায় আরব আমিরাতের ইনিংস। ১৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ একাই ধ্বসিয়ে দেন ললিত রাজবংশী। ছোট টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিক নেপাল। মাত্র এক রানেই হারাতে হয় প্রথম উইকেট। ২২ রানেই সাজঘরে ফেরেন ৩ ব্যাটার। কিন্তু আরব আমিরাতের সাফল্য কেবল ওতটুকুই। ওয়ানডাউনে নামা গুলশান ঝা এবং ভিম শারকি হতাশ করেছেন আমিরাতের বোলারদের। ৮৪ বলে ৬৭ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেন গুলশান ঝা। দারুণ ব্যাটিং আর বল হাতে দুই উইকেট নেয়ার সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও জুটেছে তার। এই জয়ের ফলে নিশ্চিত হলো এশিয়া কাপের এবারের আসরের লাইনআপ। ছয় দলের এশিয়া কাপে পাঁচ দল নিশ্চিত ছিল আগেই। ৬ষ্ঠ দল হিসেবে এতে যুক্ত হচ্ছে নেপাল। ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে 'এ' গ্রুপে খেলবে তারা। আর টুর্নামেন্টে 'বি' গ্রুপে খেলবে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা আর আফগানিস্তান। ওয়ানডে সংস্করণের এবারের এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হবে পাকিস্তানের মাটিতে। সেপ্টেম্বর মাসে টুর্নামেন্ট শুরু হবার কথা রয়েছে। তবে আসরের বড় দল ভারত পাকিস্তানে গিয়ে খেলতে রাজী না হওয়ায় এখন পর্যন্ত আয়োজন নিয়ে আছে বড় রকমের শঙ্কা।



