দিবাকর চৌধুরী:প্রতিপক্ষ হিসেবে পাকিস্তানকে খুব ভালো করে চেনা বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দলের। এই পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার পথ সুগম করেছিল জাহানারা-সালমারা । প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশ, নিজেদের তৃতীয় ম্যাচেই জয়ের দেখা পেল সেই চিরচেনা প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের বিপক্ষে। বোলারদের নৈপুণ্যে বিশ্বকাপের প্রথম জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ৩ ম্যাচের মধ্যে দুইটি জিতে এই ম্যাচ নিয়েও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।
হ্যামিল্টনে টস ভাগ্য সহায় হয়নি বাংলাদেশের। পাকিস্তান টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৩৪ রানের মাঝারি সংগ্রহ পায় বাংলাদেশের নারীরা। ফর্মের চূড়ায় থাকা ফারজানা হক এই ম্যাচেও তুলে নেন অর্ধশতক, ১১৫ বলে ৫টি চারের সাহায্যে করেন গুরুত্বপূর্ণ ৭১ রান। নিগার সুলতানা জ্যোতি করেন ৬৪ বলে ৪৬ ও শারমিন আখতার করেন ৫৫ বলে ৪৪ রান। পাকিস্তানের হয়ে তিন উইকেট শিকার করেন নাশরা সান্ধু।
বাংলাদেশের বেঁধে দেয়া স্কোর পার করতে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ সূচনা পায় বিসমাহ মারুফের দল। উদ্বোধনী জুটিতে নাহিদা খান ও সিদরা আমিনের ব্যাট থেকে আসে ৯১ রান। ৬৭ বলে ৪৩ রান করে নাহিদা সাজঘরে ফিরলেও পাকিস্তানের হয়ে হাল ধরেন সিদরা আমিন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছিলেন অধিনায়ক বিসমাহ মারুফ। দুজন মিলে করেন ৬৪ রানের জুটি । ৪৮ বলে ৩১ রান করে অধিনায়ক বিদায় নিলে খেই হারায় দলটি।
এর পরে অন্য আর কোন ব্যাটসম্যানই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি রুমানা, ফাহিমাদের সামনে। ১৮৩ রানে পাকিস্তান তৃতীয় উইকেট হারানোর পর ইনিংসের ৪২তম ওভারের শেষ বল থেকে ৪৪তম ওভারের শেষ বল পর্যন্ত ১৩ বলে ৫টি উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ফলে ২ উইকেটে ১৮৩ থেকে ৭ উইকেটে ১৮৭ রানের দলে পরিণত হয় পাকিস্তান।
সিদরা আমিন এক প্রান্ত থেকে আগলে রেখে শতক তুলে নিলেও জেতাতে পারেননি পাকিস্তানকে। ১৪০ বলে ১০৪ রান করে নবম ব্যাটসম্যান প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২২৫ রান করতে পারে পাকিস্তান।
বাংলাদেশের ফাহিমা খাতুন তিনটি এবং রুমানা আহমেদ দুটি উইকেট শিকার করেন। ৮ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৩৮ রানের বিনিময়ে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন ফাহিমা। তিন ম্যাচে ১ জয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।










