

ভাঁজ করা স্মার্টফোন যেন এক নতুন বিস্ময়। এগুলো তৈরিতে নতুন উদ্যমে মেতেছেন বিভিন্ন দেশের স্মার্টফোন নির্মাতারা। এ বছরের শুরুর দিকে স্পেনের বার্সেলোনায় বিশ্বের প্রযুক্তি প্রদর্শনের অন্যতম বড় আয়োজন, ওয়ার্ল্ড মোবাইল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে ফোল্ডেবল স্মার্টফোন প্রদর্শন করে চমক দেখিয়েছিল স্যামসাং, শাওমি হুয়াওয়ে সহ বিভিন্ন নামকরা প্রতিষ্ঠান।তারই ধারাবাহিকতায় এবার নিজ নিজ ব্র্যান্ডের ভাঁজ করা স্মার্টফোন ধীরে ধীরে বাজারে আনতে চলেছে কোম্পানিগুলো।এ ধরনের ফোল্ডেবল ডিভাইস গুলোতে সাধারণ স্মার্টফোন কিংবা ট্যাবের তুলনায় বড় স্ক্রিনে কাজ করা যায়। একই সময়ে কয়েকটি অ্যপস চালানো সম্ভব হয় এ ফোন গুলোতে। নির্দিষ্ট কাজের পাশাপাশি যেকোনো ভিডিও, সিনেমা দেখা বা গান শোনা যায়। পর্দার বিভিন্ন অংশে একসঙ্গে একাধিক কাজ করার সুযোগ মেলায় এরই মধ্যে প্রযুক্তি প্রেমীদের নজর কেড়েছে এগুলো।সাধারণ যেকোনো স্মার্টফোনে এলসিডি, এলইডি, অ্যামোলেড বা আইপিএস প্রযুক্তির স্ক্রিন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সেগুলো নমনীয় না হওয়ায় চাইলেও ভাঁজ করা যায় না। অপর দিকে ভাঁজ করা বা ফোল্ডেবল স্মার্টফোনে ব্যবহার করা হয় বিশেষ প্রযুক্তির ওএলইডির সমন্বয়ে তৈরি নমনীয় স্ক্রিন। সাধারণ অর্গানিক পলিমার দিয়ে তৈরি করা হয় এ স্ক্রিন গুলো, যার পুরুত্ব বেশ কম হয়। এ নমনীয় স্ক্রিন গুলো চাইলেই ভাঁজ করে ফেলা যায়। তাই স্মার্টফোনও ভাঁজ হয় খুব সহজে। তবে, ভাঁজ থেকে খুললে এ ফোনের স্ক্রিন আবার ভাঁজহীন ফোনের মতই সমতল হয়ে যায়।এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে ফোল্ডেবল ফোনের স্ক্রিনের সঙ্গে নমনীয় প্লাস্টিক যুক্ত করে দিয়েছে নির্মাতারা। ভাঁজ করা ওএলইডি ডিসপ্লেতে একটি স্তর থাকে, যা বোর্ড নামেও পরিচিত। এটি মূলত স্ক্রিনের প্রাথমিক স্তর, যা অন্য সব স্তরকে সক্ষমতা দান করে।ফোল্ডেবল ফোন গুলোতে ছবি ও ভিডিও দেখার সময় ব্যাটারির চার্জ অনেক কম খরচ হয়। এত সুযোগ সুবিধার কারণে ধারণা করা হচ্ছে, এ ধরনের স্মার্টফোন গ্যাজেট প্রেমীদের কাছে আকর্ষনীয় হয়ে উঠনে।সাধারণ স্মার্টফোনের তুলনায় নতুন প্রযুক্তি সম্বলিত এ স্মার্টফোন গুলোর দাম কিছুটা বেশি হবে।বর্তমানে স্যামসাং, শাওমির পাশাপাশি অন্যান্য কয়েকটি ব্র্যান্ড ভাঁজ করা স্মার্টফোন নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।সম্প্রতি গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৪ মডেলের ভাঁজ করা স্মার্টফোন উন্মুক্ত করেছে স্যামসাং কোম্পানি। যার দাম ১ হাজার ৮০০ ডলার নির্ধারণ করব হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায়য় যা প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার টাকায় দাঁড়ায়।এদিকে গত ১১ আগস্ট চীনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শাওমি কোম্পানি মিক্স ফোল্ড ২ নামের ফোন আনার ঘোষণা দেয়। জানা গেছে, শাওমি মিক্স ফোল্ড ২ ফোনটির বিশেষত্ব হচ্ছে এটি আগের যেকোনো ভাঁজযোগ্য ফোনের তুলনায় বেশ হালকা। ফোনটিকে কাগজের বইয়ের মতো ভাঁজ করা এবং খোলা যাবে। চীনে ফোনটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার ৯৯৯ ইউয়ান, যা প্রায় এক হাজার ৩০০ মার্কিন ডলারের সমান।


