

এবার মহাকাশে পৃথিবীর মতো দেখতে দুটো গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যদিও আয়তনে এরা পৃথিবী থেকে কয়েকগুণ বড়। গ্রহ দুটি আবিষ্কার করছে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। ধারণা করা হচ্ছে, এদের একটিতে রয়েছে প্রাণের অস্তিত্ব। এল পি ৮৯০-৯ নামক এক নক্ষত্রের চারদিকে গ্রহ দুটো গতিশীল, যার একটির নাম এল পি ৮৯০-৯বি আর অপরটি হলো এল পি ৮৯০-৯সি।এল পি ৮৯০-৯ নামক নক্ষত্রটি পৃথিবী থেকে একশ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। সূর্যের তুলনায় এটি ৬.৫ গুন ছোট। তাপমাত্রা প্রায় ২৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিকে "রেড ডুয়ার্ফ" নামেও ডাকা হয়।আর গ্রহ দুটিকে বলা হচ্ছে "সুপার-আর্থ"। এরা অনেকটা পৃথিবীর মতোই দেখতে হলেও বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে ভিন্ন।এলপি ৮৯০-৯বি নামের গ্রহটি পৃথিবীর তুলনায় ৩০ শতাংশ বড়। আর এলপি ৮৯০-৯সি নামের গ্রহটি পৃথিবীর তুলনায় ৪০ শতাংশ বড়। নিজের কক্ষপথে একবার ঘুরে আসতে এলপি ৮৯০-৯বি নামক গ্রহটির সময় লাগে পৃথিবীর হিসাবে ২.৭ দিন। অপর গ্রহ এল পি ৮৯০-৯সির সময় লাগে পৃথিবীর হিসাব মতো ৮.৫ দিন। প্রথমটির কক্ষপথ থেকে রেড ডুয়ার্ফের দুরত্ব প্রায় ২.৮ মিলিয়ন কি.মি. এবং দ্বিতীয়টির দূরত্ব ৬ মিলিয়ন কি.মি। প্রথম গ্রহটি তার নক্ষত্রের কাছ থেকে যে পরিমাণ তাপ ও আলো গ্রহন করে তা পৃথিবীর তুলনায় ৪.১ গুন বেশি। দ্বিতীয় গ্রহের বেলায় এর পরিমাণ পৃথিবীর তুলনায় ৯০ শতাংশ বেশি। বিজ্ঞানীরা বলছেন দ্বিতীয় গ্রহটির বায়ুমণ্ডল যদি প্রাণীদের অস্তিত্বের জন্য উপযোগী হয়ে থাকে, তবে তাতে পানির সন্ধান পাওয়াও সম্ভব। গ্রহ দুটি আবিষ্কারে নাসার ট্রান্সিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট টেলিস্কোপ এবং 'স্প্যাকুলুস' টেলিস্কোপের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। টেলিস্কোপ দুটি চিলির আতাকামা মরুভূমিতে অবস্থিত "পেরানাল অবজারভেটরি" তে রাখা হয়েছে। যখন কোনও নতুন গ্রহ খুঁজে পাওয়া যায় তখন মূলত কেন্দ্রীয় নক্ষত্র থেকে সেই গ্রহ কতটা দূরে আছে তা মেপে দেখেন বিজ্ঞানীরা। তার পর পরীক্ষা করে দেখা হয় সেটির আকার, ঘূর্ণন গতি ও তাপমাত্রার মতো বিভিন্ন বিষয়। এ থেকেই ধারণা করা হয়, গ্রহটিতে প্রাণ তৈরি হওয়ার মতো পরিবেশ রয়েছে কি না।এরইমধ্যে গ্রহ দুটো সম্পর্কে আরো বেশি জানতে গবেষকগণ জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ ব্যবহারের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। যদি দ্বিতীয় গ্রহটিতে প্রাণীদের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ থাকে, তবে তা খুব সহজে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ দ্বারা তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে। প্রাণের চিহ্ন শনাক্ত করা গেলে রাসায়নিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে আরো বিস্তারিত জানা যাবে।গ্রহ দুটি যে নক্ষত্রের চারদিকে ঘুরে সেটি "টিওআই-৪৩০৬" এবং "স্প্যাকুলোস-২" নামেও পরিচিত। এটি দ্বিতীয় শীতলতম নক্ষত্র, যার চারদিকে পৃথিবীর মতো দেখতে গ্রহসমূহ গতিশীল। পৃথিবীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ গ্রহ চারদিকে গতিশীল থাকে এমন আরেকটি নক্ষত্র হলো "ট্র্যাপিস্ট-১"। সূর্যসহ এ ধরনের নক্ষত্রগুলোর চারদিকে যেসব গ্রহ আবর্তিত হয় সেসব গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা বেশি থাকে।কারন এসব গ্রহের তাপমাত্রা ও পরিবেশ অনেকটা পৃথিবীর তাপমাত্রা ও পরিবেশের সাথে মানাসই।


