শর্ত পূরণ করেও টুইটারে আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন না কেন কনটেন্ট নির্মাতারা?
হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া


জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতাদের আয়ের সুযোগ দিতে সম্প্রতি ‘ক্রিয়েটর অ্যাডস রেভিনিউ শেয়ারিং প্রোগ্রাম’ চালু করেছে টুইটার। নতুন এ উদ্যোগের আওতায় টুইটারের যেসব কনটেন্টে বিজ্ঞাপন দেখানো হবে, সেগুলোর নির্মাতাদের বিজ্ঞাপনের আয়ের নির্দিষ্ট অংশ দেওয়া হবে। বিজ্ঞাপনী আয়ের অংশ পাওয়ার জন্য বেশ কিছু শর্তও দিয়েছে খুদে ব্লগ লেখার ওয়েবসাইটটি। কিন্তু শুরুতেই টুইটারের এ উদ্যোগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ, টুইটারের শর্ত পূরণ করার পরও অনেক নির্মাতা আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন না। অভিযোগ উঠেছে, টুইটারের মালিক ইলন মাস্কের পছন্দের কনটেন্ট নির্মাতারাই শুধু আয়ের সুযোগ পেয়েছেন। আর তাই টুইটারের শর্ত পূরণ করা নির্মাতার সংখ্যা প্রায় এক হাজার হলেও বর্তমানে মাত্র শতাধিক নির্মাতা আয় করতে পারছেন।টুইটারের তথ্যমতে, রেভিনিউ শেয়ারিং প্রোগ্রামের আওতায় সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করা যাবে। প্রাথমিকভাবে অর্থের বিনিময়ে টুইটারের নীল বা ব্লু টিক ব্যবহারকারীরা এ সুযোগ পাবেন। ফলোয়ার বা অনুসারীর সংখ্যা বেশি থাকার পাশাপাশি গত তিন মাসে টুইটার অ্যাকাউন্টের পোস্টগুলোতে ৫০ লাখ দর্শকের সম্পৃক্ততা থাকতে হবে। তবে এসব শর্ত মানার পরও টুইটার থেকে আয়ের সুযোগ পায়নি ‘আই, হিপোক্রেট’ নামের একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট। প্রায় তিন লাখ অনুসরণকারী রয়েছে অ্যাকাউন্টটিতে। এ বিষয়ে অভিযোগ করার পর টুইটার জানিয়েছে, ‘নির্বাচিত কিছু ব্যক্তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।’টুইটারে বিজ্ঞাপনী আয়ের সুযোগ পাওয়া কনটেন্ট নির্মাতাদের সবার সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে ইলন মাস্ক সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন অনেক টুইটার ব্যবহারকারী। তাঁদের মতে, টুইটারের আয় করার সুযোগ পাওয়া অ্যাকাউন্টগুলো বেশির ভাগই ইলন মাস্কের অনুসারী। ইলন মাস্কের টুইটে (টুইটারে দেওয়া বার্তা) নিয়মিত মন্তব্যও করা হয় অ্যাকাউন্টগুলো থেকে। তবে ইলন মাস্কের সমালোচনা করা কোনো অ্যাকাউন্ট এ তালিকায় স্থান পায়নি।সম্প্রতি মেটার থ্রেডস অ্যাপ উন্মুক্তের পর বেশ চাপে পড়েছে টুইটার। টুইটারের আদলে তৈরি অ্যাপটিতে এরই মধ্যে ১৫ কোটির বেশি ব্যবহারকারী যুক্ত হয়েছেন। থেডস অ্যাপ চালুর পর তড়িঘড়ি করে জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য আয়ের সুযোগ চালু করে টুইটার। কিন্তু বিজ্ঞাপনী আয় ভাগাভাগির সুযোগ চালুর ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠায় টুইটারের জনপ্রিয়তা কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।


