

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি) আয়োজিত মোবাইল অপারেটরদের জন্য স্পেক্ট্রামের (তরঙ্গ) নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃহস্পতিবার । গ্রাহক সেবার মান উন্নত করতে মোবাইল অপারেটরদের জন্য এ তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নিয়েছে দেশের চারটি মোবাইল অপারেটর-টেলিটক,গ্রামীণফোন,রবি এবং বাংলালিংক
টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার আয়োজনে বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এই নিলামে টেলিটক,গ্রামীণফোন,রবি এবং বাংলালিংক অংশ নেয়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর শিকদার ।দেশের সব মোবাইল অপারেটরের অংশগ্রহণে ২.৩ গিগাহার্জ এবং ২.৬ গিগাহার্জ ব্যান্ডের তরঙ্গের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম রাউন্ডে ১০ হাজার ৬০১ কোটি টাকার তরঙ্গ কিনেছে চার মোবাইল অপারেটর।
প্রথম রাউন্ডে টেলিটক ২৩শ’ ব্যান্ডে ১ হাজার ৬৮০ কোটি টাকায় তিনটি ব্লকে ৩০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ, রবি ২৬শ’ ব্যান্ডে ৬টি ব্লকে ৩ হাজার ৩৬০ কোটি টাকায় কিনেছে ৬০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ।
গ্রামীণফোন ২৬শ’ ব্যান্ডে ৬টি ব্লকে ৩ হাজার ৩৬০ কোটি টাকায় কিনেছে ৬০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ। বাংলালিংক ২৩শ’ ব্যান্ডে ৪টি ব্লকে ৪০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কিনেছে ২ হাজার ২৪১ কোটি টাকায়।
দুই ব্যান্ডে মোট ১৯০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কিনেছে চার অপারেটর।
তরঙ্গ নিলামে বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের কমিশনার প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদ জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে সভাপতিত্ব করেছেন।
নিলাম পরিচালনা করছেন বিটিআরসির সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ। এছাড়া, স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো.মনিরুজ্জামান জুয়েল,পরিচালক ড.মো.সোহেল রানা ও লে.কর্নেল মো.আউয়াল উদ্দিন জুরি বোর্ডের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার-২০১৮ এর লক্ষ্য ও পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ২০২১-২০২৩ সালের মধ্যে ৫-জি চালু করা হবে।
বিটিআরসি বলছে, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে সময়োপযোগী, অর্থনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও কারিগরিভাবে বাস্তবসম্মত উপায়ে বাংলাদেশে ৫-জি সেবা চালুর জন্য ২ দশমিক ৩ গিগাহার্জ, ২ দশমিক ৬ গিগাহার্জ ও ৩ দশমিক ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ড (তিনটি) নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশের সব মোবাইল অপারেটর প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণে ২ দশমিক ৩ গিগাহার্জ ব্যান্ডের বরাদ্দযোগ্য ১০০ মেগাহার্জ (১০ মেগাহার্জের ১০টি ব্লক) এবং ২ দশমিক ৬ গিগাহার্জ ব্যান্ডের বরাদ্দযোগ্য ১২০ মেগাহার্জ (১০ মেগাহার্জের ১২টি ব্লক) এই তরঙ্গ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।
গ্রাহক সেবার মান উন্নত করার বিষয়টি বিবেচনার পাশাপাশি মোবাইল অপারেটরদের তরঙ্গ চাহিদা, বাজার পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অবস্থা এবং সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কমিশন হতে গত ৩ মার্চ ‘ইন্সট্রাকশন ফর রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি অকশন-২০২২’ নির্দেশিকা জারি করে। এতে তরঙ্গ ব্যান্ডের ভিত্তি মূল্য, মেয়াদ, পরিশোধ পদ্ধতি,নিলাম সংশ্লিষ্ট অন্যান্য চার্জসহ তরঙ্গ নিলামে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক মোবাইল অপারেটরদের জন্য সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা সন্নিবেশিত করা হয়।
সরকারের পূর্বানুমতি গ্রহণ সাপেক্ষে ২ দশমিক ৩ গিগাহার্জ ও ২ দশমিক ৬ গিগাহার্জ ব্যান্ড তরঙ্গ ১৫ বছরের জন্য প্রতি মেগাহার্জ এর ভিত্তি মূল্য ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বর্তমানে গ্রামীনফোনের কাছে মোট একসেস তরঙ্গ রয়েছে ৪৭ দশমিক ৪০ মেগাহার্জ, রবির মোট একসেস তরঙ্গ ৪৪ মেগাহার্জ, বাংলালিংকের মোট একসেস তরঙ্গ ৪০ মেগাহার্জ এবং টেলিটকের মোট একসেস তরঙ্গ ২৫ দশমিক ২০ মেগাহার্জ।
বিটিআরসির প্রত্যাশা, এই তরঙ্গ নিলামের মাধ্যমে সরকারের উল্লেখযোগ্য আয়ের পাশাপাশি বিদ্যমান মোবাইল ৪জি সেবা সম্প্রসারণ ও এর মানোন্নয়ন এবং বাংলাদেশে মোবাইল ৫জি সেবা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


