বাংলাদেশ
ঈদকে ঘিরে সাজছে শেরপুরের গারো পাহাড়, পর্যটকদের অপেক্ষায় গজনী ও মধুটিলা

ছবি: দূরবীন নিউজ
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নতুন সাজে সেজে উঠছে শেরপুরের গারো পাহাড় অঞ্চল। দীর্ঘ এক মাস রমজানে পর্যটকের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও ঈদের ছুটিতে ভ্রমণপিপাসুদের আগমনের আশায় প্রস্তুত হচ্ছে এখানকার পর্যটনকেন্দ্রগুলো। ইতোমধ্যে ধোয়ামোছা, রংকরণ ও বিভিন্ন সাজসজ্জার কাজ শেষ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
শেরপুর জেলার উত্তর সীমান্তজুড়ে বিস্তৃত গারো পাহাড় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণস্থল। জেলার তিনটি উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে থাকা এই পাহাড়ি এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। এর মধ্যে গজনী অবকাশ কেন্দ্র ও মধুটিলা ইকোপার্ক পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। এছাড়া পানিহাটা, রাজার পাহাড়সহ আরও কয়েকটি দর্শনীয় স্থান ভ্রমণকারীদের আকর্ষণ করে।
গজনী অবকাশ কেন্দ্রে রয়েছে ভাসমান সেতু, ওয়াটার পার্ক, ওয়াটার কিংডম, ঝুলন্ত ব্রিজ, রোপওয়ে, জিপলাইনার, ক্যাবল কার, প্যাডেল বোট ও সাম্পান নৌকার মতো নানা বিনোদন ব্যবস্থা। পাশাপাশি আলোকের ঝর্ণাধারা, মিনি চিড়িয়াখানা, শিশু পার্কসহ বিভিন্ন রাইড দর্শনার্থীদের আনন্দ দেয়। এখানকার ভিউ টাওয়ারে উঠে সীমান্তবর্তী পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়, যা পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।
অন্যদিকে মধুটিলা ইকোপার্কেও রয়েছে স্টার ব্রিজ, ওয়াচ টাওয়ার, প্যাডেল বোট, ঝর্ণা, মিনি চিড়িয়াখানা ও শিশু পার্কসহ নানা বিনোদন সুবিধা। সুউচ্চ টিলা ও সেই টিলায় ওঠার দীর্ঘ সিঁড়ি দর্শনার্থীদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
স্থানীয়রা জানান, রমজান মাসে পর্যটক কম থাকলেও ঈদের ছুটিতে গারো পাহাড়ের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে আবারও ভিড় জমে। পরিবার-পরিজন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন।
গজনী বোটক্লাবের ইজারাদার এরশাদ আলী বলেন, “শীত মৌসুমে অনেক দর্শনার্থী পেয়েছি। তবে রমজান মাসে তেমন লোকজন ছিল না। ঈদকে সামনে রেখে আমরা রাইডগুলো রং করেছি এবং পর্যটকদের জন্য সব প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি ঈদে ভালো সাড়া পাবো।”
স্থানীয় ফটোগ্রাফার শরিফুল ইসলাম বলেন, “পর্যটক এলে আমাদের আয়ও বাড়ে। রমজানে কাজ কম ছিল, তবে ঈদের সময় প্রচুর দর্শনার্থী আসবে বলে আশা করছি।”
গজনী অবকাশ কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছানোয়ার হোসেন জানান, ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ গারো পাহাড় দেখতে আসেন। তাই ব্যবসায়ীরা নতুন করে দোকান সাজাচ্ছেন এবং রাইডগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শাকিল আহম্মেদ বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে এখানে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী আসেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা শেরপুরের গারো পাহাড় তাই আবারও অপেক্ষা করছে হাজারো ভ্রমণপিপাসুর পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠার জন্য।
জনপ্রিয়
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
রিমার্কের ‘ডাবল লাখপতি’ ক্যাম্পেইন শুরু, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ পুরস্কারের সুযোগ
হোমকেয়ার ও কসমেটিকস পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রিমার্ক এইচবি লিমিটেড ব্যবসায়িক অংশীদার ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী ‘ডাবল লাখপতি’ ক্যাম্পেইন আপনজন-০১ চালু করেছে। ৩ জুন থেকে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পেইনের প্রথম ধাপ চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। ক্যাম্পেইনের আওতায় দেশের যেকোনো প্রান্তের তালিকাভুক্ত রিটেইলার বা বিক্রেতারা ন্যূনতম ২ হাজার টাকার রিমার্ক পণ্য ক্রয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ পুরস্কার জয়ের সুযোগ পাবেন।

মুজিবুল হকের উত্থানের নেপথ্যে কী? ‘আমেরিকান ডাক্তার’ পরিচয়, চিকিৎসা সাম্রাজ্য ও বিতর্কের অনুসন্ধান
রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডির শুক্রাবাদে অবস্থিত “আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টার” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্টেম সেল থেরাপি, অল্টারনেটিভ মেডিসিন এবং ফাংশনাল মেডিসিনের আড়ালে ভয়াবহ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার হিসেবে পরিচিত প্রফেসর ড. এম মুজিবুল হক নিজেকে দীর্ঘদিন ধরে ‘আমেরিকান বোর্ড সার্টিফায়েড ডাক্তার’, ‘ফাইভ স্টার প্রফেসর’ এবং আন্তর্জাতিক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রচার করে আসলেও, অনুসন্ধানে উঠে এসেছে তার পরিচয়, চিকিৎসা যোগ্যতা, স্টিমসেল ব্যবসা এবং রোগীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিস্ময়কর সব প্রতারণার তথ্য।
ইসলামী ব্যাংককে বাঁচাতে দ্রুত উদ্যোগ চাইলেন শফিকুর রহমান
জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর আস্থা কমে যেতে পারে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতেও পড়বে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কমছে না হামের প্রকোপ, ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
দেশব্যাপী হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের দাবি করলেও আক্রান্তের সংখ্যা এখনো উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি শিশু টিকার আওতায় আনা হলেও প্রতিদিন হাজারের বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।




