পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক বিধবাকে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মো. শহিদুল ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে এবং সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি।

citytouch 728-X-90

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রায় সাত বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি তার একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। সেখানেই শহিদুল ইসলাম তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দেন। পরে বিয়ের প্রস্তাবও দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের ২৪ মার্চ অভিযুক্ত বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে পটুয়াখালী শহরের শেরেবাংলা সড়কে তার বোনের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে আটকে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় এবং এর ফলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে শহরে এনে অভিযুক্তের বোনের বাসায় ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান বলেন, যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই এ বিষয়ে তাদের মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। আদালত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতের আদেশের কপি এখনো তাদের হাতে পৌঁছায়নি। কপি পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মামলাটির তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।