বাংলাদেশ


৫ দিন পর রোদের দেখা, হাওরে ধান শুকাতে ব্যস্ত কৃষক


জেলা প্রতিনিধি

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত:৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

৫ দিন পর রোদের দেখা, হাওরে ধান শুকাতে ব্যস্ত কৃষক

সুনামগঞ্জের হাওরে পাঁচ দিন পর রোদ উঠায় খলায় ধান শুকাতে ব্যস্ত কৃষকেরা । ছবি: সংগৃহীত


বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী হাওরাঞ্চলে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকলেও বুধবার দিবাগত রাত থেকে সুনামগঞ্জ এবং উজানের মেঘালয়ে তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি। বৃহস্পতিবার রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন কৃষক-কৃষাণীরা। টানা ৫ দিন পর রোদ উঠায় সকাল থেকেই ধান কাটা, শুকানো, মাড়াই ও ঝাড়াই কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

 

হাওর ঘুরে দেখা গেছে, কৃষক ও শ্রমিকেরা জমির পাকা ধান কাটছেন। অনেকে আবার কয়েকদিনের ভেজা ও কাটা ধান মাড়াইয়ের জন্য খলায় নিয়ে যাচ্ছেন। খলায় স্তূপ করে রাখা ধান রোদে নাড়িয়ে শুকাতে দেখা যায় কৃষক-কৃষাণীদের। কোথাও কোথাও ভেজা ধান ও খড় সড়কে ছড়িয়ে শুকানো হচ্ছে। রোদ ওঠায় কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে, চারদিকে দেখা যাচ্ছে কর্মচাঞ্চল্য।

 

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পর্যন্ত জেলায় ৫০ দশমিক ৮১৯ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জলাবদ্ধতায় ৯ হাজার ৫৪৯ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২ হাজার ৪৭ হেক্টর জমি চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও জানান, জেলায় মোট আবাদকৃত জমির পরিমাণ ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর এবং এর মধ্যে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৮৬ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে।

 

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল ইসলাম শোভন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজান ও হাওর অববাহিকায় মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী তিন দিনে পর্যায়ক্রমে মাঝারি-ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

পূর্বাভাস অনুযায়ী, সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী তিন দিনে বৃদ্ধি পেতে পারে। তৃতীয় দিনে কুশিয়ারা নদীর পানি প্রাক-মৌসুমী বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং সুরমা নদী সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

 

এদিকে নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস, সোমেশ্বরী ও মগরা নদী এবং হবিগঞ্জের সুতাং নদী ইতোমধ্যে বিভিন্ন পয়েন্টে প্রাক-মৌসুমী বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা ও ধনু-বাউলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও তা এখনো বিপদসীমার নিচে রয়েছে। তবে আগামী তিন দিনে এই নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে বাউলাই নদী খালিয়াজুড়ি পয়েন্টে দ্বিতীয় দিনে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে, ফলে নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

 

মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানিও আগামী দিনগুলোতে ওঠানামা করতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুড়ি নদী দ্বিতীয় দিনে এবং মনু ও খোয়াই নদী তৃতীয় দিনে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে, যা এসব জেলার নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।


সম্পর্কিত

সুনামগঞ্জবন্যাহাওরাঞ্চল

জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

ময়মনসিংহে স্বামী হত্যা মামলায় দ্বিতীয় স্ত্রীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বহুল আলোচিত শফিকুল ইসলাম শপু হত্যা মামলায় তার দ্বিতীয় স্ত্রী আফরোজা শেখ ইতিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রাষ্ট্রপতির পদে থাকার আগে বা পরে অভিযোগ থাকলে আইনি ব্যবস্থা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় আইনের মুখোমুখি না হলেও, দায়িত্ব গ্রহণের আগে বা দায়িত্ব ছাড়ার পর কোনো অভিযোগ থাকলে সেসব বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ মন্তব্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে নয়, বরং যেকোনো রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

অ্যাডভান্স নিয়েও ডেলিভারিতে টালবাহানা: প্রতারণা ও অপমানের অভিযোগ স্টার টেকের বিরুদ্ধে

দেশের প্রযুক্তিপণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান Star Tech & Engineering Ltd.-এর বিরুদ্ধে অগ্রিম অর্থ নেওয়ার পরও প্রি-অর্ডার করা ম্যাকবুক সরবরাহ না করা, পরে একই পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রির চেষ্টা এবং শোরুমে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে।

টানা ১০ বছরেও লাভের মুখ দেখেনি ফুডপান্ডা বাংলাদেশ, লোকসান ১,৪০০ কোটি টাকার বেশি

বাংলাদেশের অনলাইন খাবার ও গ্রোসারি ডেলিভারি খাতে এক দশক ধরে কার্যক্রম চালালেও এখনো লাভের মুখ দেখেনি ফুডপান্ডা বাংলাদেশ। জার্মানির মূল প্রতিষ্ঠান ডেলিভারি হিরোর আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ফুডপান্ডার মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১১ মিলিয়ন ইউরো বা ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বেশি।