

বড় বাজেট, ছবিতে একাধিক বড় তারকা, ব্যাপক প্রচারণা-কোনো কিছুই যেন কাজে লাগাতে পারছে না বলিউড ইন্ডাস্ট্রি।বক্স অফিসে এমন দুর্দিন গত ৭০ বছরেও দেখেনি বলিউড। ফলে রুটি রুজিতে টান পড়ছে অভিনেতা, নির্মাতা থেকে শুরু করে বহু চলচ্চিত্রকর্মীর।বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বলিউড। সে হিসেবে বিগত বছরগুলোতে ভারতীয় চলচ্চিত্র দুনিয়ায় ছিলো কেবলই তাদের দাপট।মুক্তির পরপরই হল গুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়তেন সিনেমা প্রেমীরা। কিন্তু সেই উল্লাস আর জনপ্রিয়তা থমকে গেছে গত দুই বছরে।কোভিড মহামরির পর হলে গিয়ে ছবি দেখার অভ্যাসটাই যেন চলে গেছে দর্শকের। এমনকি বন্ধ হয়ে গেছে নামকরা পুরোনো অনেক হল।কয়েক বছর আগেও যেসব সিনেমা হলের প্রতিটি শো থাকত হাউসফুল, সেখানে দর্শকের উপস্থিতি একেবারেই হতাশাজনক।বর্তমানে এই ইন্ডাস্ট্রির মুক্তিপ্রাপ্ত ৭০ ভাগ সিনেমাই ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে, এখন যেকোনো সময়ই হতে পারে বলিউড পতন।অন্যদিকে তাদের ছাপিয়ে জায়গা করে নিচ্ছে কন্নড়, তেলেগু, তামিল, মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রির সিনেমাগুলো।এমনকি দক্ষিণী নতুন সিনেমার দাপটে নিজেদের সিনেমা মুক্তির তারিখও পেছাতে বাধ্য হয়েছে বলিউড।দক্ষিণ ভারতের আঞ্চলিক চলচ্চিত্রের এই ব্যাপক জনপ্রিয়তা একদিনে সৃষ্টি হয়নি। বছর সাতেক আগে সর্বভারতীয় বক্স অফিসে তুমুল সাড়া ফেলেছিল বাহুবলি।তারই পথ ধরে কেজিএফ-২, আরআরআর ও পুস্পার সাফল্য এখন দক্ষিণী সিনেমার সামনে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছে।সব মিলিয়ে বেশ ঝামেলার মধ্যেই আছে বলিউড। অনেকের ধারণা অদূর ভবিষ্যতে দক্ষিণী তারকারাই দখল করে নিতে পারে মুম্বাই। সালমান-শাহরুখের বদলে তখন যশ-আল্লুরাই বলিউডের মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠবে !দক্ষিণী সিনেমার তুমুল জনপ্রিয়তায় এমনিতেই বেকায়দায় রয়েছে বলিউড, তার মধ্যেই আবার আসছে একের পর এক ‘বয়কট’এর ডাক।সে তালিকায় নাম লিখিয়েছে আমির খানের ‘লাল সিং চাড্ডা’, শাহরুখ খানের 'পাঠান', সালমানের ট্রাইগার থ্রি’, অক্ষয়ের রক্ষাবন্ধন এবং রণবীর-আলিয়ার 'ব্রহ্মাস্ত্র'।এর মধ্যে অন্যতম হলো করন জোহর পরিচালিত 'ব্রহ্মাস্ত্র'। বলিউডের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমা এটি।সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া এ চলচ্চিত্রগুলোকে নেওয়া হয়েছে রাজনীতি ও ধর্মীয় অবস্থানে। মুক্তির আগেই কিছু ধর্মীয় সংগঠন নানা বিষয় সামনে এনে ডাক দেয় বর্জনের।তাদের বিরামহীন তীর্যক মন্তব্যে প্রতিনিয়ই ক্ষতবিক্ষত হচ্ছেন অভিনয় শিল্পী থেকে বড় বড় নির্মাতারাও।ইতোমধ্যেই এই বয়কট ট্রেন্ডে বিরক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছে ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই।আবার ওটিটিকেও বলিউড সাম্রাজ্য ধ্বংস হওয়ার আরেকটি বড় কারণ হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ।তাছাড়া বলিউডের নিজস্ব কোনো গল্প নেই, নির্মাতারা রিমেকেই বেশি আগ্রহী, এমন অভিযোগও উঠে আসছে দর্শকদের মধ্য থেকে।।এমন পরিস্থিতিতে বলিউডের তারকাদের চোখে মুখে চিন্তা ভাঁজ। যে তারকাদের বছরের পর বছর পাওয়া যেত না, তাঁরাও নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং, মতবিনিময় ও জনসংযোগ করছেন।কিন্তু এত এত প্রচার করেও সিনেমাপ্রেমীদের হলমুখী করা যাচ্ছে না। প্রতিবারই ব্যর্থ হতে হয়েছে।সব মিলিয়ে উত্তাল এখন বলিউড দুনিয়া। কেউ কোনোভাবেই পতন ঠেকাতে পারছেন না ইন্ডাস্ট্রির।



