ইউএনওর সরকারি গাড়িতে টিকটক বানাচ্ছেন স্ত্রী, প্রটোকল দিচ্ছে আনসার!

নিজস্ব প্রতিবেদক


ইউএনওর সরকারি গাড়িতে চড়ে ঘুরছেন তারই স্ত্রী, আর সেসব ভিডিও নিজের ফেসবুক আইডি থেকে প্রচার করছেন তিনি। তবে কি সরকারি কাজে বরাদ্দ করা একটি গাড়ি কি কর্মকর্তার পরিবারের সদস্য ব্যক্তিগত ঘোরাঘুরি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের টিকটক কনটেন্ট তৈরিতে ব্যবহার করতে পারেন?
অভিযোগটি উঠেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস. এম. রেজাউল করিমের স্ত্রী নউশিন সাইয়ারা পান্তোকে ঘিরে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারী সংশ্লিষ্ট ইউএনওর স্ত্রী। বিভিন্ন সময়ে তাকে স্বামীর সরকারি গাড়িতে ঘুরতে এবং সেই সময়কার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতে দেখা যায়। এসব ভিডিওতে তাকে গাড়ি থেকে নামানো কিংবা গাড়িতে ওঠার সময় আনসার সদস্যদের সহযোগিতা ও প্রোটকল দিতেও দেখা যায়।
শুধু সরকারি গাড়িই নয়, ইউএনওর কার্যালয়ের বিভিন্ন দৃশ্য নিয়েও তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি যানবাহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইন ও বিধিমালা রয়েছে। সরকারি যানবাহন (ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৫-এ সরকারি যানবাহনের অপব্যবহার রোধ ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যক্তিগত কাজেও সরকারি গাড়ি ব্যবহারের সুযোগের বিষয়টি সরকারি নির্দেশনায় রয়েছে।
তবে কোনো কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের অনুমোদন থাকলেও সেই সুবিধা পরিবারের সদস্যের ইচ্ছামতো ব্যবহারের সুযোগ দেয় কি না, কিংবা সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রচারমূলক ভিডিও তৈরি করা বিধিসম্মত কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিশেষ করে গাড়িটি কোন ধরনের সরকারি সুবিধার আওতায় বরাদ্দ, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কোনো অনুমোদন বা রিকুইজিশন নেওয়া হয়েছিল কি না তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
এ বিষয়ে প্রথমে হবিগঞ্জ ইউএনওর কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে, বলা হয় অভিযুক্ত ইউএনও রেজাউল করিম বদলি হয়ে রাজবাড়ী কালুখালী উপজেলা গিয়েছেন, তবে এই সম্পর্কে রাজবাড়ী ইউএনও কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।





