স্মার্ট টেকনোলজিসের এমডির বিরুদ্ধে বিদেশে গোপন কোম্পানি ও অর্থপাচারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ছাড়াই সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা এবং বিদেশে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে দেশের প্রযুক্তিপণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম ও তার ভাই মাঝহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ ও সেখান থেকে অর্জিত আয়ের কোনো তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নথিতে নেই।
একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রায় এক বছর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করলেও এখন পর্যন্ত তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৯ সালে সিঙ্গাপুরে ‘স্টারসিড টেকনোলজি’ নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন জহিরুল ইসলাম ও মাঝহারুল ইসলাম। প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক মূলধন ছিল ৬০ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৮ কোটি টাকা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে প্রযুক্তিপণ্য সরবরাহের ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে এবং দুই ভাইয়ের মালিকানা সমান। সিঙ্গাপুরের সরকারি নথি অনুযায়ী, কোম্পানিটি তুরস্কের নাগরিক পরিচয় ব্যবহার করে নিবন্ধিত হয়েছে।
অনুসন্ধানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে জহিরুল ইসলাম ও তার ভাইয়ের নামে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে ‘সিমাল টেকনোলজি মিডল ইস্ট’ ২০০২ সালে নিবন্ধিত হয়। কোম্পানিটিতে জহিরুল ইসলামের মালিকানা ১৫ শতাংশ এবং মাঝহারুল ইসলামের মালিকানা ৮৫ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা আফ্রিকাসহ তিনটি মহাদেশে বিস্তৃত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ‘টুইনমস টেকনোলজি মিডল ইস্ট’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান ২০০১ সালে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্রি-জোন এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়, যার কার্যক্রমও বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত।
বিদেশে এসব বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জহিরুল ইসলাম বা তার প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশে ব্যবসা পরিচালনার কোনো অনুমোদনের তথ্য তাদের কাছে নেই।
একই সঙ্গে আয়কর নথিতেও বিদেশি কোম্পানিগুলো থেকে অর্জিত আয়ের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও জহিরুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করেননি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অর্থপাচারের প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগও অব্যাহত রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্তে গত বছরের মার্চ মাসে একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয় দুদক। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ার পর তদন্ত কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে।






