
ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে রেল স্টেশন থেকে শুরু করে বাস স্ট্যান্ড ও লঞ্চঘাটে বেড়েছে যাত্রীচাপ। বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) ভোর থেকেই নাড়ির টানে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে শুরু করেন হাজারো মানুষ।
এদিন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও সদরঘাট ঘুরে দেখা যায় ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। রবেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমলাপুর রেল স্টেশনে জড়ো হতে থাকে ট্রেন যাত্রীরা। এ সময় যাত্রীদের দেখা যায় হাতে টিকিট নিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যের ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন। ট্রেন আসা মাত্রই হুড়োহুড়ি করে উঠে যে যার মতো সিট খুঁজে নিচ্ছেন। তবে শত কষ্টের পরও ট্রেনে উঠতে পেরে বেশ পুলকিত অনুভব করছে সাধারণ যাত্রীরা।
স্টেশনের এক কর্মকর্তা জানান, প্রথম দিন যাত্রীদের তেমন চাপ না থাকলেও আজ দ্বিতীয় দিন থেকে ট্রেনের যাত্রীচাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্টেশনে সকাল থেকে আমরা উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করছি। ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসবে ততই যাত্রীচাপ বৃদ্ধি পাবে।
তবে ঘরমুখো যাত্রীদের নিজ নিজ গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে ট্রেনের মতো বাস স্টেশনেও বেড়েছে যাত্রীচাপ। সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। এ সময় দেখা যায়, কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বাসের অপেক্ষায় স্টেশনে এসে দাঁড়িয়ে আছেন যাত্রীরা। আবার কেউবা টিকিট কেটে উঠে পড়ছেন নির্দিষ্ট বাসে। তবে যাত্রী ভীড় থাকলেও সময় মতো বাসে উঠতে পেরে বেশ আনন্দিত যাত্রীরা। এখন তাদের একটাই চাওয়া পথে যেন কোন ধরনের যানজটের ভোগান্তি না পোহাতে হয়।
এছাড়া সদরঘাট ঘুরে দেখা যায়- প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বাড়ির পানে ছুটছেন শত শত মানুষ। যাত্রীদের ঘাটে পৌঁছাতে তীব্র যানজটের ধকল সইতে হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। যারা টার্মিনালে পৌঁছাতে পারছেন, তাদেরও দীর্ঘ সময় টার্মিনালের বাইরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং যারা ভেতরে প্রবেশ করতে পেরেছেন তারা নিজস্ব গন্তব্যস্থলের লঞ্চ খুঁজতে হুড়মুড় করে হেঁটে চলছেন। তাদের মধ্যে চাঁদপুর, চরভৈরব, লক্ষ্মীপুর, শৌলা, মুলাদি, দেউলা, নাজিরপুর, লালমোহন, ভোলা ও বরিশালগামী যাত্রীদের ভিড় সবচেয়ে বেশি।
ভোলা গামী পারভেজ নামের এক যাত্রীর সাথে কথা হয়। তিনি জানান, ভোরে সদরঘাটে এসেছেন, কিন্তু লঞ্চে উঠতে পারেননি এখনও। তবে যে ভাবেই হোক বাড়ি তিনি যাবেনই।
তিনি আরো বলেন, মুই পিয়নের কাম হরি। মোগো অফিস আজ থেইক্কা ছুটি দেছে। যেমন কইরাই হোক আজকে মোর বাড়ি যাইতেই হইবে। বেতন পাইয়া সবার লাইগা জামা কাপড় কিনছি। তাই মোর জন্যে সবাই অপেক্ষা হরতে আছে। মুই না গেলে সবার পুরান কাপড় পইরা থাওন লাগবে।


