সাভারের আমিনবাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলায় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এক উপপরিদর্শক (এসআই) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার ছেলে। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে জহিরুল ইসলাম (৩২) নামে এক প্রাইভেটকারচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


নিহত মো. আলতাব হোসেন (৬০) এসবির ঢাকার মালিবাগ কার্যালয়ে উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।


পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ৮টার দিকে নিজের কারখানার পাশের একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে কয়েকজন যুবককে গ্যারেজ মালিক আবুল কালামকে মারধর করতে দেখেন আলতাব হোসেন। অটোরিকশা ও প্রাইভেটকারের সাইড দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হচ্ছিল।


ঘটনাটি দেখে আলতাব হোসেন সেখানে গিয়ে মারধরের কারণ জানতে চান। এ সময় হামলাকারীরা তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে পুলিশের সদস্য বলে পরিচয় দেন। পরিবারের অভিযোগ, পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে কানে আঘাত পেয়ে তিনি দৌড়ে নিজের কারখানায় চলে যান।


বিষয়টি জানতে পেরে তার ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম (২৬) বাবার সঙ্গে কারখানার বাইরে বের হন। এ সময় একটি প্রাইভেটকার সেখানে এসে থামে। পরিবারের দাবি, গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে আরও ২০ থেকে ২৫ জন সেখানে জড়ো হয়।


পরিস্থিতি বুঝতে পেরে আলতাব ও আরিফুল কারখানার ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা জোর করে দরজা খুলে কারখানায় ঢুকে তাদের ওপর হামলা চালায়।


এ সময় আলাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি আরিফুলকে মাটিতে ফেলে বুকে লাথি মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে পেছন থেকে ভারী কোনো বস্তু দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। একই সময়ে আলতাব হোসেনকেও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। হামলাকারীরা কারখানার মেশিনপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র ভাঙচুর করে বলেও অভিযোগ করেছে পরিবার।


পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক আলতাব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত আরিফুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


নিহত আলতাব হোসেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের প্রয়াত জুরাইন আলী শেখের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ওই এলাকায় পাঁচ শতাংশ জমিতে টিনশেডের একটি কারখানা করে মিনি গার্মেন্টস পরিচালনা করতেন।


নিহতের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাদের কারখানার পাশের একটি জায়গায় নিয়মিত কয়েকজন মাদক সেবন করতেন। তার বাবার ওপর হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।


তবে পুলিশের ভাষ্য, গাড়ি পার্কিংকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। বিষয়টি মীমাংসা করতে গিয়ে আলতাব হোসেন ও তার ছেলে হামলার শিকার হন।


সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় আলতাব হোসেনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।


এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর অভিযান চালিয়ে জহিরুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।