চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা ও তাঁর দুই বছর বয়সী মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরও চারজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী ও ছেলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কালিয়াইশ ইউনিয়নের নয়াখালের উত্তর পাশে ইকবাল কনভেনশন হলসংলগ্ন ডিবিএম ইটভাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত লোকজন বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের পাশাপাশি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। আগুন নেভাতে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদেরও বাধা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে সড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী।
নিহত ব্যক্তির নাম দেলোয়ার হোসেন (৩২)। তাঁর দুই বছর বয়সী মেয়ের নাম ওয়াসিফা। দেলোয়ার কালিয়াইশ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মলিয়াবাদ গ্রামের সায়রার বর বাড়ি এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রামগামী একটি মিনিবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কেরানীহাটগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা দেলোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পথে দেলোয়ারের মেয়ের মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত লোকজন মিনিবাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। খবর পেয়ে দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করলে অবরোধকারীদের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া করার অভিযোগ ওঠে।
পরে সাতকানিয়া থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে তাদের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এ সময় পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাত ৮টার দিকে বাসের আগুন নেভাতে সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদেরও বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁরা পিছু হটতে বাধ্য হন।
পরে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ অবরোধকারীদের ধাওয়া দিলে তাঁরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। তিনি দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। এ সময় দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা, পুলিশের ওপর হামলা ও পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নেন।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল আবছার বলেন, হাইওয়ে পুলিশের দল ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজিত জনতা তাঁদের ধাওয়া করে। এ ছাড়া থানা-পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অটোরিকশা পুলিশের হেফাজতে আছে। বাবা-মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম বলেন, দুর্বৃত্তরা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করে একটি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। পরে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে থানা-পুলিশের টহল দল ঘটনাস্থলে গেলে দুর্বৃত্তরা তাদের ওপর হামলা চালায় এবং গাড়ি ভাঙচুর করে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশকেও ধাওয়া করা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।









