ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি অব্যবহৃত কক্ষের তালা ভেঙে ১৫টি সিলিং ফ্যানসহ লোহার পাইপ ও অ্যাঙ্গেল চুরির ঘটনায় মো. মান্না শেখ নামে এক ব্যক্তিকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত মান্না শেখ বোয়ালমারী পৌর বিএনপির সহ-কোষাধ্যক্ষ ও প্রস্তাবিত উপজেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিজাউল হক শেখের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় অবস্থিত একটি অব্যবহৃত কক্ষের তালা ভেঙে এসব মালামাল চুরি করা হয়। মান্না শেখ পেশায় একজন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালক।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ভবনের পেছনে অবস্থিত অব্যবহৃত ক্যান্টিন কক্ষের তালা ভেঙে মালামালগুলো নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন শনিবার সকালে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। হাসপাতালে নৈশপ্রহরী না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে চুরির ঘটনা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে একজনকে মালামাল নিয়ে বের হতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মান্না শেখকে শনাক্ত করা হয়।
পুলিশ জানায়, চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর মান্না আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার বিকেলে তাকে ফরিদপুরের ৩ নম্বর আমলি আদালতে পাঠানো হলে আদালত ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা মালামালসহ তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত সাজা দেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল এলাকায় অবস্থানকারী কিছু বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালক এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলেও দাবি করেছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।









