সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে গিয়ে নির্যাতন ও নানা ধরনের কর্মপরিবেশের শিকার হয়ে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশি নারী কর্মীদের একটি অংশ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে আউটপাস নিয়ে দেশে ফিরেছেন ১ হাজার ৬৮৭ জন নারী কর্মী। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকেই ফিরেছেন ৯৭৯ জন বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যের বরাতে জানা গেছে।

নারী কর্মীদের অভিজ্ঞতা নিয়ে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণাতেও উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। ওভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) এক গবেষণায় দেশে ফিরে আসা নারী কর্মীদের ৯৪ শতাংশ নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কথা জানিয়েছেন। ৪৭ শতাংশ যৌন হয়রানি বা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। এছাড়া ৮২ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, তাদের ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়েছে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ৯৭ শতাংশ নারী অসুস্থ অবস্থায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি এবং একই হারে সাপ্তাহিক ছুটি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ৮০ শতাংশ পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। ১৫ শতাংশ নারী খাবার ও পানি ছাড়া ঘরে আটকে রাখার অভিজ্ঞতার কথাও বলেছেন।

সৌদি আরব থেকে ফিরে আসা কয়েকজন নারী সাম্প্রতিক সময়ে শারীরিক নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, অতিরিক্ত কাজ, বেতন না পাওয়া এবং নিয়োগের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তব কাজের মিল না থাকার অভিযোগ করেছেন। চলতি বছরও সৌদি ফেরত একাধিক নারী নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে দেশে ফিরেছেন; তাদের কারও কারও চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন হয়েছে।

এদিকে নারী কর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে সরকারও কিছু পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী জানান, নারীসহ বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের আইনি সহায়তা দিতে ১৩টি দেশের ২২টি আইন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। সৌদি আরবে নারী কর্মীদের জন্য সরকারের দুটি সেফ হোমও রয়েছে বলে তিনি জানান।

তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করলেই হবে না; নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নজরদারি, লিখিত চুক্তি, কর্মীদের অধিকার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ এবং নির্যাতনের অভিযোগে দ্রুত আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে গৃহকর্মী হিসেবে বিদেশে যাওয়া নারীদের সুরক্ষায় কার্যকর তদারকি না থাকলে ঝুঁকি থেকেই যাবে।