
ঈদের দুইদিন পরে ইজিবাইক রিজার্ভ নিয়ে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানার ইছাপুর চৌরাস্তা থেকে লালবাড়ি ব্রিজের ঢালে যান মো. আলী হোসেন দেওয়ান (৫২)। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর চুক্তি মোতাবেক ভাড়া দিলে ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন চালক জাকির হোসেন (৫০)। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। তখন জাকিরের ডাকে এক মিশুক চালক সেখানে উপস্থিত হন এবং দুইজনে মিলে আলী হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মে) সিআইডি সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।
এর আগে বুধবার (১১ মে) রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার নইয়ার বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাকিরকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির এলআইসি শাখার একটি দল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্ত ধর জানান, গত ৫ মে সকাল ১১টার দিকে ইছাপুর ইউনিয়নের লালবাড়ি ব্রিজের ঢাল থেকে আলী হোসেনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরে তাকে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছাম্মৎ মিনারা বেগম (৪০) অজ্ঞতনামা ইজিবাইক চালক ও মিশুক চালকের বিরুদ্ধে সিরাজদিখান থানায় মামলা করেন। এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর পাশাপাশি ছায়া তদন্ত করে সিআইডির এলআইসি শাখা। পরে হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত ইজিবাইক চালক জাকিরকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে।
তিনি আরো জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত জাকির জানায়, তিনি প্রায় ৮-১০ বছর ধরে গাড়ি চলানোর সঙ্গে জড়িত। ঘটনার দিন ভুক্তভোগী আলী হোসেন তার ইজিবাইক রিজার্ভ নিয়ে ইছাপুর চৌরাস্তা থেকে লালবাড়ি ব্রিজের ঢালে যান। সেখানে আলী হোসেন চুক্তি মোতাবেক টাকা দিতে গেলে ঈদ উপলক্ষে বাড়তি ভাড়া দাবি করেন জাকির। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। তখন জাকিরের আহ্বানে আরেক মিশুক চালক সেখানে উপস্থিত হয়ে আলী হোসেনকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে আলী হোসেনকে পার্শ্ববর্তী নার্সারীর কাটা তারের বেড়ার মধ্যে ফেলে দেন তারা। এতে তার বুকে তারের কাটা বিদ্ধ হয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে জাকির ও ওই মিশুক চালক সেখান থেকে পালিয়ে যান।


