অপরাধ
বিকলঙ্গ সন্তান ত্যাগে পিতার চাপ, মায়ের দৃঢ় অবস্থান!
পৃথিবীর আলো দেখার পর প্রথম যে মুখটি সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা, সেই বাবার থেকেই এলো নির্মম প্রত্যাখ্যান। সন্তান বিকলঙ্গ হবার কারনে পিতা নিজেই সন্তান ত্যাগে বাধ্য করছে মাকে। পিরোজপুরের নেছারাবাদের এই ঘটনাটি এখন কাঁদাচ্ছে পুরো দেশকে।
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার একটি হাসপাতালে জন্ম নেয় এক নবজাতক, যার দুই পা ও একটি হাত নেই। গত ২২ এপ্রিল রাতে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে পৃথিবীতে আসে এই নিষ্পাপ শিশুটি। জন্মের মুহূর্তেই সে যেন জীবনের এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে যায়।
শিশুটির জন্মের খবর পাওয়ার পরই তার পিতা আলআমীন তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। শুধু তাই নয়, তিনি তার স্ত্রীকে শিশুটিকে অন্যত্র দিয়ে দিতে বা ফেলে আসতে বলেন। একজন পিতার মুখে এমন নিষ্ঠুর কথা—যা শুধু একটি নিষ্পাপ শিশুর নয়, মানবতারই অপমান।
কিন্তু মা লিজা আখতার এখনও হার মানেননি। হাসপাতালের বেডে বসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার সন্তান অন্যদের মতো না হলেও সে আমারই সন্তান। আমি তাকে কখনো ফেলে দিতে পারব না।” স্বামী তাকে ত্যাগ করলেও তিনি সন্তানকে আঁকড়ে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দিনমজুর এই নারী ঢাকায় কাজ করে সংসার চালান। ইতোমধ্যে তার আরও দুই সন্তান রয়েছে। তবুও এই কঠিন বাস্তবতায় তিনি হাল ছাড়েননি। বরং বলেছেন, যতদিন বেঁচে থাকবেন, কাজ করে হলেও সন্তানকে বড় করবেন। তার এই কথাগুলো শুধু মায়ের ভালোবাসা নয়, এক অনমনীয় সাহসের প্রতিচ্ছবি।
তবে মায়ের চোখে শুধু সাহস নয়, গভীর ভয়ও আছে। তিনি বলেন, “আমি যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন ঠিক আছে। কিন্তু আমি মারা গেলে আমার সন্তানের কী হবে?” এমন কঠিন বাস্তবতার উত্তর কি রয়েছে আমাদের সামাজে?
এই অন্ধকার গল্পে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুরো চিকিৎসা ব্যয় মওকুফ করে ফেলেছেন। পাশাপাশি অপারেশন পরিচালনাকারী ডাঃ প্রীতিষ বিশ্বাস তার সার্জন ফিও নেননি।
চিকিৎসক জানান, জিনগত কারণ বা গর্ভকালীন চিকিৎসার অভাবে এমন শিশুর জন্ম হতে পারে। অপারেশনটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে শিশুটির শারীরিক সীমাবদ্ধতা সবার মনেই কষ্টের সৃষ্টি করেছে।
একটি শিশু যার কোনো দোষ নেই, যার কোনো পাপ নেই সে আজ জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। এই ঘটনাটি যেন আমাদের সমাজের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। একদিকে একজন পিতা নিজের সন্তানকে অস্বীকার করছেন, অন্যদিকে একজন মা সমস্ত কষ্ট সত্ত্বেও তাকে আঁকড়ে ধরে আছেন।
জনপ্রিয়
সর্বশেষ
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
লক্ষ্মীপুরে ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার
লক্ষ্মীপুরে এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৯ জুলাই) রাতে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ ওই মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

১৫ বছর পর ধর্ষণ মামলার রায়: ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, যাবজ্জীবন তিনজনের
ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের প্রায় ১৫ বছর পর মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

কমিশন ছাড়া নড়ত না ফাইল, সওজ প্রকৌশলীর সিন্ডিকেটে জিম্মি পুরো ঠিকাদার মহল
সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতি, দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য, শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দুদকের অনুসন্ধান চললেও এখনো তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আমিরাতপ্রবাসীদের ঠকিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া সনদ চক্র সক্রিয়
সংযুক্ত আরব আমিরাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ভুয়া শিক্ষাগত সনদ তৈরি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, প্রকৃত শিক্ষার্থীদের রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে জাল সনদ তৈরি করা হতো।









