কাউকে দিয়েছেন প্রতারণার মামলা, কাউকে দিয়েছেন ধর্ষণ মামলা, আবার কাউকে জরিয়েছেন অপহরণ ও মানবপাচারের মামলায়। এমনকি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় দাবি করে স্ত্রীকে দিয়ে উঠিয়েছেন লাখ লাখ টাকার চাঁদা। এমনই সব গুরুতর অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আরিফুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে।
নথি ঘেঁটে জানা যায়, এসব অভিযোগের সময় আরিফুল ইসলাম ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে যায় দূরবীন নিউজের অনুসন্ধানী টিম। কথা হয় মার্কেটের ব্যবসায়ী, ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে। তাদের বক্তব্য, নথিপত্র ও পাওয়া তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে অনুসন্ধানে উঠে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
গাজীপুরের চান্দোনা চৌরাস্তা এলাকার হাজী হোসেন পাইকারি মার্কেটের ব্যবসায়ীদের দাবি, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মামলা, নোটিশ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের সম্পত্তি ও ব্যবসা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
তবে ব্যবসায়ী তৌহিদ ইসলামের দাবি, মার্কেটের সম্পত্তির বৈধ মালিক তিনি ও তাঁর পাঁচ বোন। কিন্তু সেই সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে বিরোধ।
এছাড়া, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আরিফুল ইসলাম সোহেল বিভিন্নভাবে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন বলেও অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। তাদের দাবি, একের পর এক মামলা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ও মানসিকভাবে চাপে রাখা হয়েছে তাদের।
এক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে যশোরে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে গণধর্ষণের মামলা দেওয়া হয়েছে। আরেক ব্যবসায়ী দাবি করেন, ২০১৮ সাল থেকেই তাকে বিভিন্ন মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে অপহরণ, মানবপাচার ও প্রতারণার মতো গুরুতর মামলাও।
শুধু মামলাই নয়, মার্কেটের ভেতরে পিস্তল প্রদর্শন করে ভয় দেখানোর অভিযোগও করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে মার্কেটে এসে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এমনকি রাস্তাঘাটে চলাচলের সময়ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, দূরবীন নিউজের অনুসন্ধানে হাতে আসে আরিফুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসার আবেদন। এসব নথিতে দেখা যায়, ২০২৫ সালে তাঁর স্ত্রী মোশাররেফা, দুই ছেলে সন্তান আয়াশ ও রাইফ এবং মেয়ে আরিশার ভিসা আবেদনের জন্য ১ লাখ ১৭ হাজার ৬২৫ টাকা বাবদ পরিশোধ করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আরিফুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে দূরবীন নিউজের স্টাফ রিপোর্টার পরিচয় দিয়ে সংবাদটির বিষয়ে কথা বলতে যোগাযোগের কারণ জানানো হলেও আর কোনো সাড়া মেলেনি তাঁর।
অন্যদিকে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আত্মীয়তার দাবিও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
.png&w=3840&q=75)









