
‘জেল খাটলে কেমন লাগে’— এমন অদ্ভুত ও ভয়াবহ কৌতূহল থেকেই ১১ বছর বয়সী শিশু হোসাইনকে হত্যা করেছে তারই সমবয়সী ও কিশোর বন্ধুদের একটি দল। গত ২৪ এপ্রিল বিকেলে, এমনই এক ঘটনা ঘটেছে ফতুল্লার রেললাইন সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ভবনের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে। পরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়—নিহত শিশুটির নাম হোসাইন, বয়স মাত্র ১১ বছর।
হোসাইন গত ১৮ এপ্রিল সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে খোঁজাখুঁজি করা হলেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ছয় দিন পর তার নিথর দেহ উদ্ধার হয়, যা পরিবারের জন্য এক অসহনীয় ট্র্যাজেডি হয়ে দাঁড়ায়। ফুল বিক্রেতা সুমনের একমাত্র সন্তান ছিল হোসাইন—তার মৃত্যুতে পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে।
অভিযুক্ত ৬ জন কিশোর—যাদের বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে—শুধুমাত্র ‘জেল খাটার অভিজ্ঞতা কেমন’ তা জানার কৌতূহল থেকেই এই হত্যার পরিকল্পনা করে। কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা বা দ্বন্দ্ব ছাড়াই তারা এমন নৃশংস সিদ্ধান্ত নেয়।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে ভেতরে নিয়ে একসঙ্গে ছয়জন মিলে শিশুটিকে চাকু দিয়ে একাধিকবার আঘাত করে হত্যা করে।
অভিযুক্তদের মধ্যে ইতোমধ্যে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনকে বরিশাল থেকে এবং বাকিদের ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়।
এই ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং কিশোরদের মধ্যে মাদকাসক্তি, বিকৃত কৌতূহল এবং সামাজিক অবক্ষয়ের একটি বড় সতর্কবার্তা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক ও সমাজকেও এখনই সচেতন হতে হবে—না হলে এমন ভয়াবহ ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।



