ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনা চলছে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের বিষয়ে শিগগিরই কোনো একটি পরিণতি আসবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় বুধবার (২১ অক্টোবর) দক্ষিণ ক্যারোলাইনা থেকে জনসভা শেষে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ট্রাম্প।
ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, আমার মনে হয় না আমরা আলোচনা করছি। তবে একভাবে হোক বা অন্যভাবে, শিগগিরই কিছু একটা ঘটবে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, অনেকেই মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এখন কী ঘটে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।
এর আগে দক্ষিণ ক্যারোলাইনার জনসভায় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এখনই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ইতি টানতে পারে। তবে তিনি এমন একটি পরিণতি নিশ্চিত করতে চান, যার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে।
ট্রাম্প বলেন, ‘এটি খুব শিগগিরই শেষ হবে। আমরা এখনই চলে যেতে পারি, কিন্তু আমরা নিশ্চিত হতে চাই, যাতে এর ফল দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়।’
তিনি দাবি করেন, সামরিক ও অর্থনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পরাজিত করেছে। একই সঙ্গে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক বাহিনী।
প্রতিবেদনটিতে মার্কিন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আলোচনা সম্পর্কে অবগত কয়েকজনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
তবে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর অনুমতি ট্রাম্প দেবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করার বিষয়ে একাধিক পরিকল্পনায় ট্রাম্প সম্মতি দেননি।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, যেসব সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবে থাকতেও পারে, নাও পারে, সেগুলো নিয়ে প্রশাসন মন্তব্য করে না।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইরান পরিস্থিতির সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও কূটনৈতিক সমাধান হবে, নাকি নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।







