
শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের পদত্যাগের পর দেশটিতে ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়েছে।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ভাই ও দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে বহু মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে।
বিক্ষুব্ধ জনতা রাজাপাকসেসহ সেখানকার সংসদ সদস্যদের বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। চলমান এই সহিংসতায় দেশটিতে কমপক্ষে ২০০ জন হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। খবর: বিবিসি।
সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, গতকাল সোমবার থেকে চলমান এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৫ জন মারা গেছেন এবং প্রায় ১৯০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চলমান জরুরি অবস্থা আরও বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক তিনজন মন্ত্রী ও দুইজন এমপির বাড়িতে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। আগুন দেয়া হয়েছে রাজাপাকসের পৈত্রিক বাড়িতেও। সোমবার কলম্বোয় মাহিন্দা রাজাপাকসের বাড়ির গেট ভেঙে ফেলে জনতা। এরপর সেখানে সেনা মোতায়েন করা হয়।
এছাড়া রাজাপাকসের টেম্পল ট্রির বাড়ির বাইরে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় বিক্ষোভকারীরা। সেই সংঘর্ষও শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করে টিয়ারসেল ও জলকামান ব্যবহার করা হয় আন্দোলনরতদের বিরুদ্ধে।
শ্রীলঙ্কার পুলিশ জানিয়েছে, ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা সরকার সমর্থকদের ওপর হামলা এবং ক্ষমতাসীন দলের এমপিদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দেয়। এছাড়া গাড়িতে হামলার পর দু’জন বিক্ষোভকারীকে গুলি করার পর আত্মহত্যা করেন শ্রীলঙ্কার ক্ষমতাসীন দলের একজন এমপি।
গত কয়েক মাস ধরেই অর্থনৈতিক,খাদ্য,জ্বালানিসহ নিতপণ্যের সংকটে রয়েছে শ্রীলঙ্কার জনগণ। এর ক্ষোভে দেশজুড়ে চলছে তীব্র আন্দোলন।
এজন্য প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজন। অথচ রাজকোষ ফাঁকা! ফলে পণ্যের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমেছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে জিনিসপত্রের দাম। আর তাই চলমান এই সংকটে খুব একটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন না অর্থনীতিবিদরাও।


