

ইউক্রেনের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় নগরী মারিউপোল। কালমিয়াস নদীর মুখে অবস্থিত এই নগরীতে প্রায় তিন লাখ মানুষের বসবাস। উপকূলবর্তী নগরীটিকে গত কয়েকদিন ধরে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে রুশ বাহিনী।
মারিউপোলে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে সোমবার স্থানীয় সময় ভোর পাঁচটার (বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা) মধ্যে আত্মসমর্পণের সময় বেঁধে দিয়েছিল রুশ বাহিনী।
দুটি মানবিক করিডোর দেওয়া হবে জানিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের শহর ছেড়ে যাওয়ার আদেশও দেয় রাশিয়া। কিন্তু দেশটির এমন আল্টিমেটাম প্রত্যাখান করে ইউক্রেনের যোদ্ধারা। নগরীর মেয়রের একজন উপদেষ্টা জানান, রাশিয়ার কোনও প্রতিশ্রুতিই বিশ্বাস করা যায় না। তাই তারা শেষ সৈনিকের জীবন থাকা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এদিকে আল্টিমেটামের চূড়ান্ত সময়সীমা পেরিয়ে যাবার আগেই আকাশ, স্থল ও সমুদ্র থেকে একযোগে হামলা চালিয়ে মারিউপোলকে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত করেছে রুশ বাহিনী।
এই পরিস্থিতিতে বিবিসির সাংবাদিক হুগো বাচেগা জানিয়েছেন, ভূতুরে এক নগরীতে পরিণত হয়েছে মারিউপোল। এরই মধ্যে সেখানে দেখা দিয়েছে চরম খাদ্য সংকট। কোথাও নেই বিদ্যুৎ, প্রায় ফুরিয়ে এসেছে চিকিৎসা সরঞ্জামাদিও। বিভিন্ন ছবি দেখলে বোঝা যায় আশপাশের এলাকাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। লাশ সংগ্রহ করে সমাহিত করা খুবই বিপদজনক, তাই লাশ সংগ্রহে কেউ এগিয়ে আসছে না। লাশগুলো রাস্তায় রাস্তায় পড়ে আছে। শেষ পর্যন্ত কিছু লাশ সংগ্রহ করা গেলেও সেগুলোকে গণকবরে সমাহিত করা হচ্ছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোর থেকে রাশিয়ার এই অভিযান শুরু হয়। এরই মধ্যে সোমবার ২৬তম দিনে গড়িয়েছে অভিযান। বিগত ২৫ দিনে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি নগরী দখলে নিয়েছে রুশ বাহিনী। সূত্র: বিবিসি।



