

যুদ্ধের মধ্যেই দুই শতাধিক বন্দী বিনিময় করলো রাশিয়া-ইউক্রেন।রাশিয়ার মানবাধিকার কমিশনার “তাতিয়ানা মোশকালকোভার” বরাত দিয়ে রেডিও ফ্রি ইউরোপ জানায়, গত ৮ এপ্রিল, শনিবার এই বন্দী বিনিময় সম্পন্ন হয়।বন্দীদের মধ্যে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের চার কর্মী ও সেনারা ছিলেন। তারা রাশিয়ায় ফিরেছেন।বন্দী বিনিময়ের পর সোমবার রাত্রিকালীন নিয়মিত বক্তব্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রুশ সেনাদের হাতে বন্দী সব সেনাকে ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, সর্বশেষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় দুই শতাধিক সেনা বন্দী বিনিময় করেছে রাশিয়া-ইউক্রেন। রাশিয়ার বন্দিত্ব থেকে ৮০ জন পুরুষ এবং ২০ জন নারী সেনা ইউক্রেনে ফিরেছেন।ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘ইস্টারের আগে শতাধিক পরিবার সত্যিকারের আনন্দ পেয়েছে। আমরা অবশ্যই রাশিয়ার বন্দিত্ব থেকে আমাদের সবাইকে ফিরিয়ে আনতে কাজ করব। একই বক্তব্যে জেলেনস্কি তার চলমান বৈদেশিক নীতি এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার রূপরেখা উল্লেখ করেন।এইদিন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী, প্রখ্যাত ব্রিটিশ উদ্যোক্তা রিচার্ড ব্রানসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। একইদিন তিনি ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি চুক্তিতে মিলিত হন।রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখতে কিয়েভ এখনও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। বুচা ও অন্যান্য শহরে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক নিপীড়নের অভিযোগ আনার মধ্যেই তিনি এমন কথা বলেন।বন্দী বিনিময়ের বিষয়ে ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ইরিনা ভেরেশচুক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে এক পোস্টে জানান, তাদের ১২ সেনাসদস্য ও ১৪ বেসামরিক নাগরিক বন্দী বিনিময়ের আওতায় দেশে ফিরেছেন। বন্দীদের মধ্যে নয়জন নারী ছিলেন। তিনি পোস্টে আর কয়জন রাশিয়া থেকে ইউক্রেনে ফিরে আসবেন তা উল্লেখ করেননি।এর আগে, গত ২২ মার্চ বন্দী বিনিময় করে রাশিয়া ও ইউক্রেন। প্রথম দফায় রাশিয়ার ৯ সেনাসদস্যকে মুক্তি দেয় ইউক্রেন।তখন রাশিয়ার মানবাধিকার কমিশনার জানান, ইউক্রেনের মেলিতপোল শহরের মেয়রকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেয় রুশ বাহিনী। মেয়রের বিনিময়ে রাশিয়ার ৯ সেনাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে বলে জানান কমিশনার।এরপর পহেলা এপ্রিল, ফের বন্দি বিনিময় হয়। এদিন ইউক্রেনের শহর জ্যাপোরিঝঝিয়ায় তাদের বিনিময় করা হয়। জেলেনস্কির কার্যালয় জানায়, ইউক্রেনের ৮৬ জন নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে রাশিয়া। তবে রাশিয়ার কয়জনকে তারা মুক্তি দিয়েছেন তা জানানো হয়নি।এদিকে, অপ্রত্যাশিত এ বন্দী বিনিময়কে বিশ্ববাসী ইতিবাচকভাবেই দেখছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে জেনেভা কনভেনশনের প্রতি মস্কো কিয়েভের সম্মান প্রদর্শন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।জেনেভা কনভেনশন অনুসারে, যখন কোন দেশের যোদ্ধারা বা সৈনিকেরা শত্রু পক্ষের সীমানার ভেতরে বন্দী হন; তাদের অধিকার, মর্যাদা, স্বদেশে প্রত্যাবাসনসহ, বিভিন্ন বিষয়ে যুযুধান দুই পক্ষকে মনোযোগী হতে হয়।মানবাধিকার রক্ষার্থে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে কনভেনশন আবশ্যিকভাবে পালন করতে হয়। তৃতীয় জেনেভা কনভেনশনে যুদ্ধবন্দীদের সাথে আচরণ এবং তাদের রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কিত বিধান রয়েছে। সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে কোনও পক্ষের কোনও বাহিনীর সদস্য যদি অন্য পক্ষের এলাকায় সেখানকার বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে, তবে তাঁকে যুদ্ধবন্দীর মর্যাদা দিতে হয়। জেনেভা কনভেনশন অনুসারে, একজন যুদ্ধবন্দী মানবিক অধিকার পাওয়ার অধিকারী। যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর কোনরকম দেরি না করেই যুদ্ধবন্দীদের মুক্তি এবং স্বদেশে প্রত্যাবাসন বা ফেরত পাঠানোই কনভেনশনের নিয়ম। তবে এভাবে ফেরত পাঠানোর মতো পরিবেশ যদি না থাকে বা দুই পক্ষ কোন যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে যুদ্ধরত প্রতিটি পক্ষ কোনরকম দেরি না করে ওপরের নীতির আলোকে যুদ্ধবন্দীদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে নিজস্ব একটি পরিকল্পনা তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করতে পারে।আর রাশিয়া ইউক্রেনেও নিজস্ব নীতি অনুসরণ করছে। যা মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য এক অনন্য নির্দশন বলেই মনে করছেন মানবাধিকারকর্মীরা।


