

বাইরে নিরপেক্ষতা দেখালেও গোপনে রাশিয়াকে অস্ত্র দিতে রাজি চীন। ইউক্রেনে যুদ্ধ করার জন্য ক্রেমলিনকে প্রাণঘাতী অস্ত্র দেওয়ার বিষয়টিতে অনুমোদন দিয়েছে শি জিনপিং প্রশাসন। তবে বেইজিংয়ের চাওয়া, অস্ত্রের চালানের বিষয়টি মস্কোকে গোপন রাখতে হবে। পেন্টাগনের ফাঁস হওয়া নথির বরাত দিয়ে এমন খরব জানিয়েছে, প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের রাশিয়াকে অস্ত্র দেওয়া সংক্রান্ত অতি গোপন ওই মার্কিন গোয়েন্দা নথিটি ২৩ ফেব্রুয়ারির। রাশিয়াকে চীনের অস্ত্র দেওয়া নিয়ে এ তথ্য সংগ্রহ করে মার্কিন গোয়েন্দারা। আঁড়ি পেতে রুশ গোয়েন্দাদের আলোচনা শোনার মাধ্যমে এসব তথ্য মার্কিন গোয়েন্দাদের হাতে আসে। রুশ গোয়েন্দারা এ বিষয়ে বলেন, ‘চীনের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন চায় অস্ত্রের চালানের বিষয়টি যেন গোপন থাকে।’এছাড়া আরেকটি গোপন গোয়েন্দা নথিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সরবরাহ করা অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনে একটি বড় ধরনের হামলার বিষয়টি নিয়ে ভাবছে বেইজিং। পশ্চিমা বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘আর যদি এটা হয়, তাহলে চীন যে রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করবে, তার পক্ষে একটা যুক্তিও দাঁড় করানো যাবে।’ পেন্টাগনের নথি থেকে এমন সময়ে রাশিয়াকে চীনের অস্ত্র দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসলো যখন বিশ্বমঞ্চে বেইজিং বারবার বলে আসছে, তাদের অবস্থান অত্যন্ত নিরপেক্ষ। নিরপেক্ষতার সাফাই গেয়ে অতি সম্প্রতি চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিন গ্যাং জানিয়েছেন, ইউক্রেনে যুদ্ধরত কোনও পক্ষের কাছে অস্ত্র বিক্রি করবে না চীন। পাশাপাশি বেসামরিক ও সামরিক কাজে ব্যবহার করা যায় এমন পণ্যের রফতানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার কথাও জানিয়েছেন ছিন গ্যাং। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো বলে আসছে, রাশিয়াকে প্রাণঘাতী অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনা করছে চীন। এই উদ্বেগের বিষয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করেছিলেন। ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে রাশিয়াকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে বেইজিং। কিন্তু প্রকাশ্যে নিজেদের নিরপেক্ষ হিসেবে দাবি করছে দেশটি। কিন্তু পেন্টাগনের ফাঁস হওয়া নথি জানিয়ে দিচ্ছে ভিন্ন কথা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গোপন যেসব গোয়েন্দা নথি ফাঁস হয়েছে এবং অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, এই নথিগুলো তার মধ্যে আছে। এসব গোপন নথি ফাঁসের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ম্যাসাচুসেটস থেকে জ্যাক টাশেরিয়া নামে ২১ বছরের এক তরুণকে গ্রেপ্তারও করেছে।মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এসব নথি সত্য এবং এসব নথিতে অতি সংবেদনশীল তথ্য আছে। তবে এর মধ্যে কিছু কিছু নথি বিকৃত করা হয়েছে।এদিকে, ফাঁস হওয়া নথি থেকে আরও জানা গেছে, সার্বিয়াও ইউক্রেনকে অস্ত্র দিতে রাজি হয়েছে। ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে পশ্চিমা জোট একে একে রাশিয়ার ওপর নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা চাপালেও এই পথ অনুসরণ করেনি সার্বিয়া।ইউরোপের একমাত্র দেশ হিসাবে তারাই রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা দিতে অস্বীকার করেছে। কিন্তু দেশটি কিয়েভকে অস্ত্র সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে বা ইতোমধ্যেই পাঠিয়েছে বলে পেন্টাগনের নথি থেকে জানা গেছে। নথিটি সামরিক প্রশিক্ষণ এবং ‘মারাত্মক সাহায্য’ বা অস্ত্রের জন্য ইউক্রেনের অনুরোধে ইউরোপীয় সরকারের প্রতিক্রিয়াগুলোর একটি সারসংক্ষেপ। সম্প্রতি এটি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নথিতে দেখা গেছে, বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিতে অস্বীকার করেছে, কিন্তু প্রাণঘাতী সাহায্য পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বা ইতোমধ্যেই সরবরাহ করেছে। এটি আরও বলছে, সার্বিয়ার রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং ভবিষ্যতে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করার সামরিক সক্ষমতা রয়েছে।সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্ডার ভুসিকের কার্যালয় এবং ইউক্রেনীয় দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি। পেন্টাগনও সার্বিয়ার নথির উল্লেখ সম্পর্কে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি।



