

সামিউল হক খানঃ
জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ২ কোটি মানুষ আন্তঃশরণার্থী হয়ে পড়তে পারেন। এমন আশঙ্কা বিশ্ব ব্যাংকের।
এছাড়া ব্যাংকটি বলছে ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক স্তর, খরা, উচ্চ তাপমাত্রাসহ নানা ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে বিশ্বের প্রায় সাড়ে চৌদ্দ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়তে পারেন। বুধবার বিশ্ব ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। খবর: আলজাজিরা।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা এরই মধ্যে এই ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। কেননা এই অঞ্চলের দেশগুলোতে ঝড়, উপকূলীয় বন্যা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ বন্যার প্রভাব সবচাইতে বেশি। আর বাংলাদেশ জলবায়ুর প্রভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।ৎ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যা ও বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলার ক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশের জানমালের ক্ষতি হওয়ার ভয় সবচেয়ে বেশি।
ঢাকা ভিত্তিক ইন্টারন্যশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলাপমেন্টের পরিচালক সলিমুল হক বলেছেন, একটি এলাকার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচাইতে উজ্জ্বল উদাহরণ মোংলা। এই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দেড় লাখ মানুষ বসবাস করছেন। জীবিকা নির্বাহই এদের কাছে মূখ্য। বাকি সব কিছু যেন খুবই তুচ্ছ এখানে। সব ভয়কে পেছনে ঠেলে বহু মানুষ জীবিকার সন্ধানে ছুটে যান সুন্দরবনে। জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ এমনকি বিষাক্ত সাপের সাথে যুদ্ধ করে কিভাবে শত প্রতিকুলতার মধ্যে দিয়ে জলবায়ুর ক্ষতিকর দিকগুলো কীরূপে পার করা যায় এটা তাদের ভালো করেই জানা।
গত মাসে জলবায়ু পরিবর্তনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি)। সে সময় জাতিসংঘের মহাসচিব প্রতিবেদনটিকে 'মানুষের জন্য লাল সংকেত' বলে অভিহিত করেন।



