আন্তর্জাতিক


ইরান সংকটকে নজির দেখিয়ে পারমাণবিক অবস্থান জোরালো করলেন কিম জং উন


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:২৫ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার

ইরান সংকটকে নজির দেখিয়ে পারমাণবিক অবস্থান জোরালো করলেন কিম জং উন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নীতিকে আরও দৃঢ় করার যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন দেশটির নেতা Kim Jong Un। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি প্রমাণ করে পারমাণবিক অস্ত্র ধরে রাখার সিদ্ধান্তই ছিল সঠিক।

 

পিয়ংইয়ংয়ে সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে দেওয়া এক ভাষণে কিম জং উন ওয়াশিংটনের কর্মকাণ্ডকে ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসবাদ ও আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যা দেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম CNN এ তথ্য জানিয়েছে।

 

কিম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বা তথাকথিত ‘মিষ্টি কথায়’ পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত আজ যৌক্তিক প্রমাণিত হয়েছে। তিনি ঘোষণা করেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক মর্যাদা এখন ‘অপরিবর্তনীয়’ এবং ভবিষ্যতে কোনো আলোচনা হলেও তা নিরস্ত্রীকরণকে কেন্দ্র করে হবে না।

 

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংসের হুমকি ও সামরিক পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে কিম জং উন বলেন, পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকলে যে কোনো দেশ সহজেই বড় শক্তির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। তাই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য পারমাণবিক অস্ত্রকে ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে দেখছে পিয়ংইয়ং।

 

শুধু অভ্যন্তরীণ শক্তি বৃদ্ধি নয়, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে Russia-এর সঙ্গে কৌশলগত সামরিক সহযোগিতা জোরদার করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে গোলাবারুদ ও সেনা সহায়তা দিয়ে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান দৃশ্যমান করছে। এর বিনিময়ে খাদ্য, জ্বালানি ও সামরিক প্রযুক্তি সহায়তা পাচ্ছে দেশটি, যা তাদের অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকীকরণে সহায়ক হচ্ছে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে কিম জং উন তার কন্যা কিম জু আয়ে-কে বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রমে সামনে আনছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে তিনি বার্তা দিচ্ছেন যে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও অব্যাহত থাকবে।

 

তবে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেও কিম কূটনীতির দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি। তার শর্ত স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর কোরিয়াকে একটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তাদের প্রতি ‘শত্রুতামূলক নীতি’ পরিহার করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।

 
 

সম্পর্কিত

ইরানযুক্তরাষ্ট্রউত্তর কোরিয়াকিম জং উন

জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

পারমাণবিক অস্ত্রই সুরক্ষাকবচ: ইরানের উদাহরণ টেনে হুঙ্কার কিম জং উনের

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন পারমাণবিক অস্ত্র নিজের কাছে রাখার সিদ্ধান্তকে ‘সঠিক’ বলে অভিহিত করেছেন। মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ ও আগ্রাসনের’ অভিযোগ করেন।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতায় ভারত ডাকল সর্বদলীয় বৈঠক

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছে। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে আজ বিকেল ৫টায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্র, এবং বিভিন্ন দলের প্রধানরা।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির জন্য ইরানের শর্ত ঘোষণা

ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির জন্য কয়েকটি শর্ত নির্ধারণ করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান চাচ্ছে—

নিম্ন উচ্চতার ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় হিমশিম মার্কিন বিমানবাহিনী

ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্র একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হচ্ছে, কারণ ইরান দক্ষভাবে নিম্ন উচ্চতার হুমকি এবং ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মঙ্গলবার ‘মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউট’-এর আয়োজিত ভার্চুয়াল প্যানেল আলোচনায় উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র নিম্ন উচ্চতার হুমকি মোকাবিলায় যথেষ্ট বিনিয়োগ করেনি, আর ইরান ঠিক এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করেছে।