
পাকিস্তানের ইতিহাসে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাম লিখলেন ইমরান খান। দেশটির সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ইমরান খানের বিরুদ্ধে ১৭৪ জন এমপি ভোট দিয়েছেন। ইমরানকে হারাতে বিরোধীদের দরকার ছিল ১৭২ ভোট। খবর-আল-জাজিরা, দ্য ডন,সিএনএন।
শনিবার নির্ধারিত সময়ের শেষ পর্যায়ে এসে পাকিস্তানে ইমরান খানের বিরুদ্ধে শুরু হয় অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটাভুটি।
ভোট শুরুর আগ মুহুর্তে দিবাগত রাতে পদত্যাগ করেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার আসাদ কায়সার ও ডেপুটি স্পিকার কাসেম সুরি। প্যানেল চেয়ারম্যান আয়াজ সাদিকের পরিচালনায় চলে ভোটাভুটি।
ভোট শেষে প্যানেল স্পিকার আয়াজ সাদিক ঘোষণা দেন, ১৭৪ জন সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে তাদের ভোট দিয়েছেন। ফলস্বরূপ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের প্রস্তাবটি সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হয়েছে।
ইমরান খান হেরে যাওয়ার কারণে ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের জন্য নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা হবে।
ডন জানায়, প্রধানমন্ত্রী ইমরানকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিদেশি ষড়যন্ত্রে অংশ নিতে পারবেন না জানিয়ে শনিবার পদত্যাগ করেছেন স্পিকার কায়সার।
পাকিস্তানের স্থানীয় সময় শনিবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন শুরু হয়। কিন্তু অনাস্থা ভোটের আগে ইমরান খানের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংসদের ভেতর তুমল হট্টগোল আর ক্রুদ্ধ বাকবিতণ্ডা শুরু হলে জাতীয় পরিষদের স্পিকার সাময়িকভাবে অধিবেশন মুলতুবি করে দেন।
এর দুই ঘণ্টা পর আবার অধিবেশন শুরু হয়। এর পর আবার মুলতবি ঘোষণা করা হয় এবং এশার নামাজ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়। এদিকে অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটকে ঘিরে দেশটির পার্লামেন্টের বাইরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে দাঙ্গা পুলিশ।
পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান খান। তার ক্ষমতাচ্যুতির মধ্য দিয়ে দেশটির নির্বাচিত একজন প্রধানমন্ত্রীও তার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারলেন না।



