হরমুজ প্রণালিকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এ সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। পোস্টে ট্রাম্প লিখেন, “ইরান এইমাত্র ঘোষণা করেছে যে হরমুজ প্রণালি এখন পুরোপুরি উন্মুক্ত এবং চলাচলের জন্য প্রস্তুত। ধন্যবাদ!”
এর আগে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে কার্যকর হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেন। সংঘাতের কারণে প্রণালিটি আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছিল।
বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ সম্পন্ন হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ এবং বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে যুক্ত করা ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি এই পথ দিয়ে বিভিন্ন দেশে পরিবাহিত হয়।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত জ্বালানির বড় অংশই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো ব্যবহার করে। এর মধ্যে রয়েছে চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও ফিলিপাইন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাও মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরাসরি জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল, ফলে এই প্রণালির যেকোনো পরিবর্তনের প্রভাব এসব দেশের জ্বালানি বাজারেও পড়ে।









