
ট্রাম্পের পর কে হবে নতুন প্রেসিডেন্ট! এই প্রশ্ন এখন শুধু রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় নয়, বরং ভবিষ্যৎ বিশ্ব রাজনীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণের এক বড় ইঙ্গিত।
২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে ক্ষমতার লড়াই, যেখানে সবচেয়ে আলোচিত দুই নাম—জেডি ভ্যান্স এবং মার্কো রুবিও।
এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু ব্যক্তির নয়, বরং দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শনের সংঘর্ষ। ভ্যান্স নিজেকে কট্টর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ পপুলিস্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন, যেখানে বিদেশি হস্তক্ষেপ ও যুদ্ধের বিরোধিতা তার মূল অবস্থান। অন্যদিকে, রুবিও দীর্ঘদিন প্রথাগত রক্ষণশীল ও আন্তর্জাতিকমুখী রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
তবে সময়ের সঙ্গে দুজনই ট্রাম্পের নীতির দিকে ঝুঁকেছেন, যা প্রমাণ করে ট্রাম্পের প্রভাব এখনো রিপাবলিকান রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
বর্তমানে ভ্যান্স ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতার কেন্দ্রেই রয়েছেন। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যর্থতা ও জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার কারণে তার অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে রুবিও একসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে প্রশাসনের ভেতরে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। হোয়াইট হাউসের খুব কাছ থেকে কাজ করার সুযোগ তাকে কৌশলগতভাবে এগিয়ে রাখছে।
সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ভ্যান্সের জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে কমছে। বিপরীতে, রুবিওর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। বিভিন্ন জরিপে তার সমর্থন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তাকে ২০২৮ সালের দৌড়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।
দুজনের সামনেই রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। ভ্যান্সের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তার কমতে থাকা জনপ্রিয়তা এবং কিছু কূটনৈতিক ব্যর্থতা।
রুবিওর জন্য চ্যালেঞ্জ হলো দলের কট্টর পপুলিস্ট অংশ, যারা তাকে অতিরিক্ত ‘এস্টাবলিশমেন্ট’ ঘেঁষা মনে করে।
যদি ভ্যান্স নেতৃত্বে আসেন, তাহলে রিপাবলিকান পার্টি আরও কট্টর পপুলিজম ও অভ্যন্তরীণ জাতীয়তাবাদের দিকে ঝুঁকতে পারে।
অন্যদিকে, রুবিও ক্ষমতায় এলে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বজায় রেখেও আরও সংগঠিত ও কৌশলগত আন্তর্জাতিক ভূমিকা দেখা যেতে পারে।
সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো তার উত্তরসূরি নির্ধারণ করেননি। তার সমর্থনই শেষ পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতার ফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।
২০২৬ সালের মিডটার্ম নির্বাচনও এই দৌড়ের গতিপথ ঠিক করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



