লাইফস্টাইল


শুধু এসপিএফ ৫০ লিখলেই কি সানস্ক্রিন নিরাপদ?


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:২৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

শুধু এসপিএফ ৫০ লিখলেই কি সানস্ক্রিন নিরাপদ?

অস্ট্রেলিয়ায় সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা নিয়ে সাম্প্রতিক এক বিতর্ক বিশ্বজুড়ে ভোক্তাদের মধ্যে নতুন করে সচেতনতা তৈরি করেছে। দেশটির ভোক্তা অধিকার সংস্থা চয়েস (Choice)-এর এক অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, পরীক্ষায় ২০টি জনপ্রিয় সানস্ক্রিনের মধ্যে ১৬টিই তাদের লেবেলে উল্লেখ করা এসপিএফ (SPF) সুরক্ষা দিতে পারেনি। এ ঘটনার পর বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে, কোনো সানস্ক্রিনের গায়ে SPF 50 লেখা থাকলেই সেটি প্রত্যাশিত সুরক্ষা নিশ্চিত করে কি না।

 

অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম স্কিন ক্যান্সারপ্রবণ দেশ। সেখানে প্রতি বছর প্রায় ২ হাজার মানুষ স্কিন ক্যান্সার ও মেলানোমায় মারা যান। ধারণা করা হয়, প্রতি তিনজন অস্ট্রেলিয়ানের মধ্যে প্রায় দুজনকে জীবনের কোনো না কোনো সময়ে স্কিন ক্যান্সারের জন্য অস্ত্রোপচার করাতে হয়। এমন একটি দেশে, যেখানে সানস্ক্রিন দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ, সেখানে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ের এই বিতর্ক বিশ্বব্যাপী আলোচনার জন্ম দেয়।

 

চয়েস-এর অনুসন্ধানে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় SPF 50+ হিসেবে বাজারজাত একটি সানস্ক্রিন। পরীক্ষায় সেটির কার্যকারিতা প্রায় SPF 4-এর সমতুল্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ড এ ফলাফলের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করলেও পণ্যটি বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে অস্ট্রেলিয়ার থেরাপিউটিক গুডস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (TGA) একই ধরনের সানস্ক্রিনের বিভিন্ন পরীক্ষাগারের ফলাফলে বড় ধরনের পার্থক্যের কারণ অনুসন্ধান শুরু করে।

 

এই ঘটনা বাংলাদেশের ভোক্তাদের মাঝেও একটি প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। অনেকের বিশ্বাস, আমদানি করা স্কিনকেয়ার পণ্য স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্যের তুলনায় বেশি নির্ভরযোগ্য। তবে অস্ট্রেলিয়ার এই বিতর্ক দেখিয়েছে, পরিচিত ব্র্যান্ডের নাম থাকলেই একটি পণ্যের কার্যকারিতা নিশ্চিত হয় না। দেশি কিংবা বিদেশি, যে কোনো সানস্ক্রিনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেটি লেবেলে উল্লেখ করা সুরক্ষা বাস্তবেও দিতে সক্ষম কি না।

 

ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং অতিবেগুনি (UV) রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায় বাংলাদেশেও প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। তবে দেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় অনেক ব্যবহারকারী সানস্ক্রিন এড়িয়ে চলেন। কারণ অনেক পণ্য ব্যবহারের পর ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত বা চিটচিটে অনুভূত হয়, আবার কিছু পণ্যে ত্বকে সাদা আস্তরণ বা হোয়াইট কাস্ট দেখা যায়। অন্য দেশের জলবায়ুর জন্য তৈরি অনেক ফর্মুলা বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আরামদায়ক নাও হতে পারে। ফলে একটি সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা নির্ভর করে সেটি নিয়মিত ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে কি না, তার ওপরও।

 

সানস্ক্রিন নির্বাচন করতে হলে প্রথমেই এর লেবেলের তথ্য বোঝা প্রয়োজন। SPF (Sun Protection Factor) মূলত UVB রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষার মাত্রা নির্দেশ করে, যা সানবার্নের জন্য দায়ী। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে একটি SPF 50 সানস্ক্রিন প্রায় ৯৮ শতাংশ UVB রশ্মি প্রতিরোধ করতে পারে। অন্যদিকে PA রেটিং নির্দেশ করে UVA রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষা, যা ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ট্যানিং, পিগমেন্টেশন এবং অকাল বার্ধক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ দুটি রেটিং একত্রে একটি সানস্ক্রিনের সামগ্রিক সুরক্ষা সম্পর্কে ধারণা দেয়।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। ইন-ভিভো (In-vivo) পরীক্ষায় মানব স্বেচ্ছাসেবকের ত্বকে পণ্য ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রিত UV রশ্মির মাধ্যমে কার্যকারিতা পরিমাপ করা হয়। অধিকাংশ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই পদ্ধতিকে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে ইন-ভিট্রো (In-vitro) পরীক্ষায় স্পেকট্রোফটোমিটারের মাধ্যমে পরীক্ষাগারে সানস্ক্রিনের একটি স্তরের মধ্য দিয়ে UV রশ্মি প্রবেশের মাত্রা পরিমাপ করা হয়। এ পদ্ধতি দ্রুত এবং কম ব্যয়বহুল হলেও বিভিন্ন পরীক্ষাগারে ফলাফলে পার্থক্য দেখা দিতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বর্তমানে সেই পার্থক্যের কারণ খতিয়ে দেখছে।

 

এ কারণে ভোক্তাদের এমন ব্র্যান্ড বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যারা তাদের পরীক্ষার পদ্ধতি, পরীক্ষাগারের নাম এবং পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ করে।

 

বিশ্বব্যাপী সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা নিয়ে নজরদারি বাড়ার পর বাংলাদেশের কিছু স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডও স্বাধীন পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পণ্যের কার্যকারিতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে স্কিন ক্যাফে তাদের 'স্কিন ক্যাফে সানস্ক্রিন SPF 50 PA+++ উইথ ভিটামিন সি' পণ্যটি তৃতীয় পক্ষের পরীক্ষার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ISO/IEC 17025:2017 মানসম্পন্ন ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবরেটরি লিমিটেডে জমা দেয়।

 

কোম্পানির প্রকাশিত ANA-240724002/1 নম্বরের পরীক্ষার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পরিচালিত পরীক্ষায় ল্যাবভিত্তিক UV স্পেকট্রোফটোমেট্রি পদ্ধতিতে সানস্ক্রিনটির SPF মান ৫২.৫১ পাওয়া গেছে, যা পণ্যের লেবেলে উল্লেখ করা SPF 50-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কোম্পানির ভাষ্য, পরীক্ষায় সামান্য বেশি SPF পাওয়া মানে পণ্যটি দাবির চেয়ে বেশি কার্যকর নয়। এসপিএফ পরীক্ষায় এ ধরনের সীমিত পার্থক্য স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হয় এবং এটি মূল দাবির যথার্থতাই নির্দেশ করে।

 

স্থানীয়ভাবে পরীক্ষা করানোর এ উদ্যোগ আরেকটি বিষয়ও সামনে এনেছে। একটি সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা পরীক্ষাগারের ফলাফলের পাশাপাশি ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন ব্যবহারের ওপরও নির্ভর করে। বাংলাদেশের আবহাওয়ার উপযোগী ফর্মুলেশন ও স্থানীয় পরিবেশে পরীক্ষার মাধ্যমে এমন পণ্য তৈরি হলে পরীক্ষার ফলাফল এবং বাস্তব ব্যবহারের অভিজ্ঞতার মধ্যে ব্যবধান কমানো সম্ভব হতে পারে।

 

তবে কোনো একটি পরীক্ষার ফলকেই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। একটি স্বাধীন পরীক্ষার প্রতিবেদন ভোক্তার আস্থা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলেও, সেটিই শেষ কথা নয়। একজন ভোক্তার অধিকার রয়েছে জানতে চাওয়ার, কোন পদ্ধতিতে, কখন এবং কোন প্রতিষ্ঠানে পণ্যটির পরীক্ষা করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক বিতর্ক আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, আকর্ষণীয় মোড়ক কিংবা উচ্চ SPF-এর দাবি দিয়ে একটি সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যায় না। দেশি বা বিদেশি, প্রতিটি ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রেই পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং প্রমাণভিত্তিক তথ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


জনপ্রিয়


লাইফস্টাইল থেকে আরও পড়ুন

নাদিয়া আফরোজের প্রশিক্ষণে সুপার অ্যাডভান্সড মেকআপ মাস্টার ক্লাস ১৮ আগস্ট

মেকআপ শিল্পে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিউটি উদ্যোক্তা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য একদিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে ফ্যান্সী বিউটি ইনস্টিটিউট অ্যান্ড টেকনোলজি। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেকআপ আর্টিস্ট নাদিয়া আফরোজের প্রশিক্ষণে আগামী ১৮ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে ‘একদিনের এক্সক্লুসিভ সুপার অ্যাডভান্সড মেকআপ মাস্টার ক্লাস’।

অ্যালোভেরার পুষ্টিতে ত্বকের যত্নে নতুন আস্থা, বাজারে ফ্যান্সী স্কিন ক্রিম

ব্যস্ত জীবনযাত্রা, ধুলাবালি ও পরিবেশদূষণের কারণে ত্বকের উজ্জ্বলতা ও সজীবতা ধরে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাজারে এসেছে প্রিমিয়াম মানের ফ্যান্সী অ্যালোভেরা স্কিন ক্রিম, যা ত্বকের গভীরে পুষ্টি পৌঁছে দিয়ে ত্বককে সতেজ ও কোমল রাখতে সহায়তা করে বলে জানিয়েছে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান।

আধুনিক স্বাদে দেশি টুইস্ট, কেএফসি নিয়ে এলো 'কারি ক্রাঞ্চ'

বৈশ্বিক ফাস্টফুড ব্র্যান্ড কেএফসির বাংলাদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ট্রান্সকম ফুডস লিমিটেড ভোজনরসিকদের জন্য নতুন মেনু আইটেম ‘কেএফসি কারি ক্রাঞ্চ’ উন্মোচন করেছে। দেশীয় পরিচিত স্বাদের সঙ্গে আধুনিক ফিউশনধর্মী অভিজ্ঞতা দিতে নতুন এই আয়োজন বাজারে এনেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রিয় দল হারলে মন ভালো করার ৭টি কার্যকর উপায়

ফুটবলপ্রেমীদের কাছে প্রিয় দলের পরাজয় অনেক সময় আবেগজনিত হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রিয় দলের জার্সি পরে খেলা দেখা, বন্ধুদের সঙ্গে ম্যাচ উপভোগ এবং উচ্ছ্বাস ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ যেমন গভীর অনুভূতি তৈরি করে, তেমনি পরাজয়ের পর সেই আবেগই মন খারাপের রূপ নেয়।