সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা যোগদানের তারিখ এগিয়ে আনার সরকারি সিদ্ধান্তের পর রাজধানীর শাহবাগে চলমান অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে যোগদানের তারিখ প্রায় এক মাস এগিয়ে আনায় রোববার বিকেলে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন তারা।
এর আগে রোববার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নিয়োগপ্রার্থীরা দ্রুত যোগদান ও পদায়নের দাবিতে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন। দুপুরের দিকে ধর্মগ্রন্থ পাঠ, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং প্রয়াত সহকর্মীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
পরে আন্দোলনকারীরা মাথায় লাল কাপড় বেঁধে দ্রুত পদায়নের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে শাহবাগ থেকে টিএসসি অভিমুখী সড়কের একপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশি ব্যারিকেড ও জলকামান মোতায়েন করা হয়।
আন্দোলন চলাকালেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা থেকে একটি সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। উপসচিব রাজীব কুমার সরকারের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পূর্বঘোষিত ২৯ অক্টোবরের পরিবর্তে আগামী ১ অক্টোবর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক নিজ নিজ জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন। পরদিন ২ অক্টোবর তাদের পদায়ন সম্পন্ন হবে।
এর আগে শনিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন তদন্ত ও প্রক্রিয়াগত আনুষ্ঠানিকতার কারণে যোগদানে বিলম্বের কথা জানিয়ে ২৯ অক্টোবরের তারিখ ঘোষণা করেছিলেন। তবে নিয়োগপ্রার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই নতুন সিদ্ধান্তে সেই সময়সূচি প্রায় এক মাস এগিয়ে আনা হয়।
মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর আন্দোলনকারীরা সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। এরপর তারা আনুষ্ঠানিকভাবে শাহবাগের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়। দীর্ঘ ১৭৫ দিনের অপেক্ষার পর অবশেষে তাদের যোগদান ও পদায়নের অনিশ্চয়তা কাটল।










