
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক মাসের বেশি সময় ধরে ডিম ও ব্রয়লার মুরগি বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ফার্মের ডিমের দাম প্রায় ১৫০ টাকা। কয়েক মাস আগে যা ছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। একইভাবে ব্রয়লার মুরগির কেজি এখন ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, যেখানে আগে পাওয়া যেত ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়।
বাজারে সোনালি মুরগির দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে প্রায় ৩০ টাকা বেড়ে বর্তমানে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকায়। হাইব্রিড সোনালি বা কালারবার্ডের দাম তুলনামূলক কম—কেজি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও অতিরিক্ত গরমে বিভিন্ন খামারে মুরগি মারা গেছে। অনেক খামারি পরবর্তী সময়ে নতুন করে উৎপাদনে যাননি। এর সঙ্গে লোডশেডিংয়ের প্রভাবও পড়েছে খামার পরিচালনায়। ফলে বাজারে ডিম ও মুরগির সরবরাহ কমে দাম বেড়েছে।
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই
মাছের বাজারেও গত ছয় মাসে বেশ কয়েকটি মাছের দাম বেড়েছে। বর্তমানে তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি, যা মার্চে ছিল ২০০ থেকে ২৩০ টাকা। পাঙাশের দামও বেড়ে এখন ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি।
রুই-কাতলার দাম আকারভেদে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। বড় রুইয়ের দাম ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি। পাবদার দাম ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং টেংরা প্রায় ৭০০ টাকা কেজি।
মৌসুমি সবজিতে দামের ওঠানামা
মৌসুম বদলের সঙ্গে সঙ্গে সবজির বাজারেও পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে লম্বা বেগুন ৭০ টাকা এবং গোল বেগুন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি।
সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে টমেটোর দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, যেখানে মার্চে ছিল মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকা।
আগাম শিমের দামও বেশ চড়া—কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। পটোল, ঢ্যাঁড়স ও কাঁকরোলের মতো সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে কাঁচা মরিচের দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ১২০ টাকা থাকলেও বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৬০ টাকায়। মার্চের শেষ দিকে যার দাম ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা।
তবে সবজির সব ধরনের দাম বাড়েনি। করলার দাম কিছুটা কমে এখন ৮০ টাকা কেজি। পেঁপের দামও প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে—কেজি ৪০ টাকা।
তেল-চিনিতেও বাড়তি খরচ
নিত্যপণ্যের তালিকায় তেল ও চিনির দামও বাড়তি। চলতি মাসের শুরুতে কোম্পানিগুলো বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে। ফলে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম এখন ২০৪ টাকা।
খোলা চিনির দামও বেড়েছে। মাসখানেক আগে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা কেজি থাকলেও বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকায়। মোড়কজাত চিনির দাম প্রায় ১২০ টাকা কেজি।
অন্যদিকে সুগন্ধি বা পোলাও চালের দাম এখনো কেজিপ্রতি ২০০ টাকার আশপাশে। অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ ঠিক রাখতে সম্প্রতি সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার।
নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে
ক্রেতাদের অভিযোগ, কোনো কোনো পণ্যের দাম কিছুটা কমলেও সামগ্রিক বাজার ব্যয়ের চাপ কমেনি। একই পরিমাণ পণ্য কিনতে আগের তুলনায় বেশি টাকা খরচ হচ্ছে।
ক্রেতাদের মতে, ছয় মাস আগে ৫০০ টাকায় যে পরিমাণ প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা যেত, এখন একই টাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। চাল, ডালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের খরচও যোগ হওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুমি কারণে সবজির দাম ওঠানামা করলেও ডিম ও মুরগির ক্ষেত্রে উৎপাদন ও সরবরাহের ঘাটতি বড় কারণ। মাছের ক্ষেত্রেও উৎপাদন, সরবরাহ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে দাম পরিবর্তিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে কিছু পণ্যের দাম স্থির থাকলেও রাজধানীর বাজারে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের স্বস্তি ফেরেনি। বিশেষ করে ডিম, মুরগি, মাছ এবং কয়েক ধরনের সবজির বাড়তি দাম তাদের দৈনন্দিন বাজার খরচে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।







