চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খলনায়ক আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়েছে। নতুন করে আগামী ৮ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত দিনে তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। এ কারণে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এ নিয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১১ বারের মতো সময় পেলেন তদন্ত কর্মকর্তা। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক ওয়াজেদ আলী খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আবদুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সালমান শাহর পারিবারিক নাম চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। তিনি বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে তার মা নীলা চৌধুরী, বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই শাহরান শাহ তাকে দেখতে নিউ ইস্কাটনের বাসায় যান। সেখান থেকে তাদের সিলেটে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সালমানের মা-বাবা আলাদা বাসায় বসবাস করতেন। তারা ইস্কাটনের বাসায় পৌঁছালে সালমানের স্ত্রী সামিরা ও বাসার কর্মচারী আবুল জানান, তিনি ঘুমাচ্ছেন। ওই সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও সালমানের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। পরে সালমান ঘুমিয়ে থাকায় তার মা-বাবা ও প্রযোজক সিদ্দিক বাসা থেকে চলে যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের বাবাকে জানান, তার ছেলের কিছু একটা হয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাসায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে সালমানকে শোবার ঘরে পড়ে থাকতে দেখেন।
এজাহার অনুযায়ী, তখন কয়েকজন নারী সালমানের হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং রুবী নামে এক নারী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সামিরা সালমানের মাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে সালমানের মা-বাবা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পা নীলচে দেখতে পান। অবস্থার অবনতি বুঝতে পেরে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে মামলার এসব বিষয় এজাহারে করা অভিযোগের অংশ; তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিলের পর মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এগোবে।









