মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন কি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন? আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও এ কথা জানিয়েছেন ইশরাক।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হওয়ার ব্যাপারে ইশরাক হোসেনের আগ্রহ ও তৎপরতা রাজনৈতিক অঙ্গনে আগেও আলোচনায় এসেছে। মেয়র পদ নিয়ে আইনি লড়াই থেকে শুরু করে আন্দোলন বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি সক্রিয় ছিলেন। পরে সরকার গঠনের পর তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক করা হয় আব্দুস সালামকে এবং উত্তরে দায়িত্ব পান শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দুই সিটির প্রশাসকদের কর্মকাণ্ডও আলোচনায় রয়েছে। হকার উচ্ছেদ, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁদের সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। প্রশাসনিক কাঠামো ও সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগ থাকায় তাঁদের কার্যক্রমের পরিসরও তুলনামূলক বড়। অন্যদিকে ইশরাকের হাতে সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই।
এমন পরিস্থিতিতে ইশরাক নিজ উদ্যোগে মাদকবিরোধী অভিযান ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিতে শুরু করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ভালো হতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা ধরে রাখা আর প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন এক বিষয় নয়। এসব উদ্যোগে পরিকল্পনা, আইনগত সীমারেখা এবং জনসংযোগের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।
গত ১৭ অক্টোবর ঢাকার গেন্ডারিয়ায় কথিত মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ইশরাককে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যায় এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, একজন প্রতিমন্ত্রী নিজে অস্ত্র হাতে এ ধরনের অভিযানে অংশ নিতে পারেন কি না এবং এতে আইনগত সীমা লঙ্ঘিত হয়েছে কি না। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশ ঘটনাটি তদন্তের উদ্যোগ নেয়।
আমার দৃষ্টিতে, মাদকবিরোধী কার্যক্রমের উদ্দেশ্য সমর্থনযোগ্য হলেও তা পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করা; নিজে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া নয়। বিশেষ করে অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার মতো ঘটনা জননিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সাহসী ভূমিকা রাখা আর সরকারি দায়িত্বে থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে। তাঁর আশপাশে অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল পরামর্শক দল থাকলে এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং জনসমক্ষে বক্তব্য ও কার্যক্রম আরও সতর্কভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতো।
এখন বড় প্রশ্ন, দুপুরে তিনি ঠিক কী ঘোষণা দেন এবং অস্ত্র হাতে অভিযানের ঘটনায় তদন্তের ফল কী আসে। পদত্যাগের ঘোষণা দিলেই অবশ্য ঘটনাটির আইনগত দিক শেষ হয়ে যায় না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত তিনি মন্ত্রী থাকুন বা না থাকুন।
আইনের শাসন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। মাদকবিরোধী অভিযান হোক কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কোনোটিই আইনগত জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়।









