কক্সবাজারের ঈদগাঁও ও রামু উপজেলার পাহাড়ি সড়কে দিনের বেলায় অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে লুটপাট চালিয়েছে মুখোশধারী ডাকাতদের একটি দল। সোমবার ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কের হিমছড়ি ঢালায় দুই দফায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহনের শতাধিক যাত্রী ডাকাতির শিকার হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র দল যানবাহনের গতিরোধ করে যাত্রীদের পাশের জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে মারধর করে নগদ টাকা, মুঠোফোন ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ডাকাতির শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের যাত্রীরা বেশি ছিলেন।
ঈদগড় শাখার একটি বেসরকারি সংস্থার ব্যবস্থাপক মো. রবিউল ইসলাম জানান, দুপুরে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় ডাকাতেরা তাঁর সঙ্গে থাকা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, দুটি মুঠোফোন ও কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়। তাঁকে ও তাঁর সঙ্গীকে মারধর করে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
আরেকটি বেসরকারি সংস্থার হিসাবরক্ষক আবদুল হাকিম বলেন, অটোরিকশায় করে যাওয়ার সময় তাঁদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। পরে জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ব্যাংকের চেকবই ছিনিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেকও একই সড়কে মুঠোফোন ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে জানান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কয়েক ঘণ্টা ধরে লুটপাট চললেও ঘটনাস্থলে পুলিশের টহল ছিল না। তাঁদের দাবি, সকাল ৮টা ও দুপুর ১২টার দিকে দুই দফায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সড়কে আগেও লুটপাট ও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার জানান, দুর্বৃত্তরা সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে যানবাহনে লুটপাট চালিয়ে জঙ্গলে আত্মগোপন করেছে। তাদের ধরতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। সড়কের গহিন বনাঞ্চলে টহল জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।









