রাজনীতিতে একটি পদ হারানো বা ছেড়ে দেওয়া কি রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শেষ? সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর রাজনৈতিক পথচলা টেনে এই প্রশ্নটিই নতুন করে সামনে আসছে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘোষণাকে ঘিরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
২০০৪ সালের ২৫ মার্চ তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পদত্যাগ করেন।ঐসময়ই অনেকেই আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর রাজনীতির কবর রচনা করে ফেলছেন,কেউ কেউ তো তখন আমির খসরুরে বিএনপি থেকেও পদত্যাগ করার কুপরামর্শ দিয়েছে। পরে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উঠে আসেন তিনি। সে-ই আমিরু খসরুরেই বেগম খালেদা জিয়া পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক থেকে সরাসরি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক বানিয়েছেন,সে-ই আমির খসরু বর্তমানে অর্থমন্ত্রী।
এই পুরোনো ঘটনাটিই এখন ইশরাক হোসেনের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে তার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরপর তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এমন খবর প্রকাশ পেলেও ইশরাক প্রথমে সেটিকে গুজব বলে দাবি করেছিলেন।
তবে পরিস্থিতি পরে বদলে যায়। ১৯ অক্টোবর সকালে ইশরাক নিজেই জানান, দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন।
এখানেই আমির খসরুর সঙ্গে তুলনার জায়গাটি গুরুত্বপূর্ণ। আমির খসরুর ক্ষেত্রে মন্ত্রিত্বের অধ্যায় শেষ হলেও বিএনপির রাজনীতির অধ্যায় শেষ হয়নি। বরং পরবর্তী সময়ে তিনি দলের আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উঠে এসেছেন। ফলে কোনো রাজনৈতিক পদ থেকে সরে যাওয়া যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি এমন সরল সমীকরণ সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
তবে ইশরাকের ক্ষেত্রে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তার পদত্যাগের পর তিনি দলের রাজনীতিতে কী ভূমিকা রাখবেন, সেটি নির্ভর করবে তার পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, দলীয় অবস্থান এবং সময়ের সঙ্গে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির ওপর। ইশরাক নিজেও জানিয়েছেন, প্রতিমন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ চালিয়ে যাবেন।
রাজনীতিতে তাই পদ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে পারে, কিন্তু পুরো রাজনৈতিক পথচলার একমাত্র পরিচয় নয়। আমির খসরুর অতীত সেই বাস্তবতার একটি উদাহরণ। ইশরাকের ক্ষেত্রেও পদত্যাগ শেষ অধ্যায়, নাকি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের শুরু তার উত্তর দেবে সময়।
মামুনুর রশিদ খাঁন: সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত), দুরবীন নিউজ ।









