

ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পদযাত্রা কর্মসূচিতে হামলা, গুলি ও হত্যার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার শোকমিছিল করবে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো। ঢাকায় আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে এই শোকমিছিল বের হবে।গতকাল বুধবার বিকেলে যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়কে এক সমাবেশ থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। সমাবেশে গতকালের পদযাত্রায় ছয়টি জায়গায় হামলা হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘যে গুলি করেছে, এই গুলির হিসাব দিতে হবে। কার সন্তানকে মেরেছেন, এই জবাব দিতে হবে। গুম-খুনের প্রতিটির বিচার আমরা পাই পাই করে নেব। যাঁরা গুলি করছেন, তাঁদের বলব, সাবধান হয়ে যান। অন্যথায় জনগণের রোষানল থেকে রেহাই পাবেন না।’সমাপনী বক্তব্যে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘শেষ কথা হলো, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়। এই সরকারের অধীনে আমরা কোনো নির্বাচন যাব না এবং যারা নির্বাচনে যাওয়ার চিন্তা করবে, চেষ্টা করবে, তাদের সরকারের দালাল হিসেবে আখ্যায়িত করে এ দেশের মাটিতে তাদের বিচার করা হবে।’আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের একটি বক্তব্যের উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘কাদের সাহেব বলেছেন, “বিদেশিরা বিএনপিকে কী জানি..কী একটা (ঘোড়ার ডিম) কিছুই দেয় নাই।” আরে ভাই, আমরা বিদেশিদের দাওয়াত দিয়া আনছি, না আমরা বিদেশিদের কাছে চাইছি। আমরা কিছুই চাই নাই।’আব্বাস বলেন, ‘বরং বিদেশিরা এসে দেখেছেন, আপনারা কীভাবে হত্যা করেন। বিদেশিরা দেখেছেন, আপনারা কীভাবে গুম করেন, কীভাবে ভোটের অধিকার হরণ করেন। সুতরাং তাঁরাও আজ আপনাদের সঙ্গে নেই। সারা বিশ্বে আপনারা একা হয়ে গেছেন। কেউ আপনাদের সমর্থন করে না।’সরকারের উদ্দেশে আবদুস সালাম বলেন, ‘আরে হিরো আলমের লগেই নির্বাচন করতে পারেন না। আবার বলেন বিএনপির কথা।’ তিনি বলেন, ‘মনে রাখবেন, দিনের পর রাত আসে, রাতের পর দিন আসে।’ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন মহানগর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ, মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক নবীউল্লাহ, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মাহমুদ।এদিকে বিএনপির পদযাত্রায় বাধা, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাকাসহ দেশের ৭ জেলায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ৯১৬ জন নেতা–কর্মীর নাম উল্লেখ করে ১৬টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৭ হাজার ৫১ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা এসব মামলার বাদী। এসব মামলায় গতকাল বুধবার পর্যন্ত ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


