

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রতদূত পিটার হাসের গুলশানের বাসায় একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন মার্কিন দুই কংগ্রেসম্যান। প্রথমে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন রিচার্ড ম্যাককরমিক ও এড কেস। তাতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিরা যোগ দেন।আওয়ামী লীগের হয়ে বৈঠকে অংশ নেন দলটির অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ও সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়শা খান, সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক ও তামান্না নুসরাত বুবলি। আর বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং জাতীয় পার্টির তিন সংসদ সদস্য শেরিফা কাদের, রানা মোহাম্মদ সোহেল ও নাজমা আকতার এতে অংশ নেন।বৈঠক শেষে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছি। সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে তারা জানতে চাইলে বলেছি, একদলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। তাই নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনেই হতে হবে। গত নির্বাচনগুলো একদলীয়ভাবে হয়েছে, সুষ্ঠু হয়নি। কেন এক দফা দাবির আন্দোলন, এর প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন বলে জানিয়েছেন তিনি।জানা গেছে, সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিধান রাখা সম্ভব নয় বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রতিনিধিদের বলা হয়েছে। আর অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন।সূত্র জানিয়েছে, দুই কংগ্রেসম্যান বলেছেন, শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা দুনিয়ায় অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।এই বৈঠকের পর সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনায় অংশ নেন মার্কিন দুই কংগ্রেসম্যান। এতে অংশ নেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, মানবাধিকারকর্মী এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মো. নূর খান লিটন, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, ফটোগ্রাফার শহীদুল আলম, সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান, আর্টিকেল ১৯ এর আঞ্চলিক পরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া) ফারুক ফয়সালসহ কয়েকজন।এই বৈঠকটিও চলে ঘণ্টার বেশি। তাতেও উঠে আসে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, নির্বাচন আয়োজন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে।


