

পুলিশের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘অশালীন’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা পুলিশ প্রধান এবং ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ঘৃণা জানাই। দুই কর্মকর্তাকে অবিলম্বে চাকরি থেকে অব্যাহতির দাবি জানাচ্ছি। তারা চারবারের প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন, তা ভব্যতা-সভ্যতার সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে।’
রিজভী আরও বলেন, ‘পুলিশের অতি দলবাজ এই দুই কর্মকর্তা নিশিরাতের প্রধানমন্ত্রীর কৃপা পেতে যে অমার্জনীয় অপরাধ করেছেন, তার মাশুল তাদের একদিন দিতেই হবে। বিশেষ করে এক্সটেনশন সার্ভিসে থাকা পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যে নোংরা ভাষায় কথা বলেছেন, তা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী তো দূরের কথা, কোনো ভদ্র পরিবারের সন্তানের পক্ষে উচ্চারণ করা সম্ভব নয়।’
‘দেশে কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক সরকার থাকলে চাকরিবিধি লঙ্ঘনের দায়ে এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার এতক্ষণে জেলে না হলেও চাকরি থেকে পত্রপাঠ বিদায় হওয়ার কথা ছিল’ বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতিকেরা এখন সাইডলাইনে, নিশিরাতের সরকার চলছে র্যাব-পুলিশের বন্দুকের ওপর ভর করে।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘বিএনপি দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। দেশের অর্থনীতির ওপর অবরোধ আরোপ করতে একটি রাজনৈতিক দলের নেতারা লবিস্ট নিয়োগ করছেন, জিএসপি বন্ধ করতে চিঠি লিখেছেন।’
একই অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা’ বলার কড়া সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘যাকে তার স্বামী পরিত্যাগ করছিল…যে পাকিস্তানের ওখানে কী করছে…। আর এখন সে নাকি এক নম্বর মুক্তিযোদ্ধা।’


