
রাজধানীর শাহজাহানপুরে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপুকে হত্যার জন্য শ্যুটার মাসুম মোহাম্মদ আকাশকে ভাড়া করেছিল তারই বন্ধু মোল্লা শামীম। এমনকি টিপুকে হত্যার সময় যে মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়েছিল সেটিও চালাচ্ছিলেন শামীম। তবে ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্রে জানা গেছে, মাসুমকে সাত দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে শামীমের নাম পাওয়া গেছে। তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যেকোনো সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
তবে এই বিষয়ে ডিবি কর্মকর্তারা সরাসরি কথা বলতে রাজি হননি।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, মতিঝিল এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীরা মরিয়া হয়ে উঠেছিল। কিন্তু তাদের পথের কাঁটা হয়ে উঠেছিলেন টিপু। তাই রাজনৈতিক বিবাদ ও বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ স্পৃহাকে কাজে লাগিয়ে টিপুকে হত্যার ইন্ধন দেন বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী ফ্রিডম মানিক ও জিসান। তাদের নির্দেশে টিপুকে হত্যার জন্য শ্যুটার মাসুমকে ভাড়া করেছিল তারই বন্ধু স্থানীয় যুবলীগ নেতা শামীম।
আরো জানা যায়, এই হত্যাকাণ্ডের সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করেছেন সুমন শিকদার ওরফে মুসা। তিনি ঘটনার ১২ দিন আগে দুবাই চলে যান। সেখানে বসেই টিপু হত্যার সর্বশেষ ছক কষেন। টিপু হত্যার মাস্টারমাইন্ড গ্রেপ্তারকৃত ওমর ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগের কাজ করেন মুসা। তিনিই শামীমকে তথ্য সরবরাহ করেন।
টিপু হত্যায় রিমান্ডে থাকা মাসুম জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য দিয়েছেন। তাকে সাত দিনের রিমান্ড শেষ মঙ্গলবার আদালতে তোলা হবে। সেখানে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে পারেন।
মাসুম জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, কিলিং মিশনে তার সঙ্গে মোল্লা শামীম ছিল। শামীমের মোটরসাইকেলে করেই শাহজাহানপুরে ইসলামী ব্যাংকের পাশে বাটার শো-রুমের সামনে আসেন মাসুম। তারপর টিপুকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে আবার শামীমের মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
২৪ মার্চ রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুরে ইসলামী ব্যাংকের পাশে বাটার শো-রুমের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন আওয়ামী লীগ নেতা টিপু। এ সময় টিপুর গাড়ির পাশে রিকশায় থাকা সামিয়া আফরান প্রীতি (১৯) নামের আরেক এক কলেজছাত্রীও গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন টিপুর গাড়িচালক মুন্নাও।
এ ঘটনায় শুক্রবার টিপুর স্ত্রী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেন। পরে এই ঘটনায় প্রথমে শ্যুটার মাসুম মোহাম্মদ আকাশ ও আরফান উল্লাহ ওরফে দামাল নামের এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে ওমর ফারুকসহ আরোও চারজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
র্যাবের হাতে গ্রেপ্তাকৃতরা হলেন এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ওমর ফারুক (৫২), আবু সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ (৩৮), মো. নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছির (৩৮), এবং মো. মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্লা পলাশকে (৫১)।


